প্রাণের দায়ে পালিয়েছে দুশোর বেশি হিন্দু পরিবার,রোহিঙ্গা ইস্যুতে খুন হয়েছেন ছিয়াশি জন হিন্দু

প্রাণের দায়ে পালিয়েছে দুশোর বেশি হিন্দু পরিবার,রোহিঙ্গা ইস্যুতে খুন হয়েছেন ছিয়াশি জন হিন্দু

মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা অত্যাচারের কথা গত দুমাস থেকে সংবাদের শিরোনামে,রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ নিয়েও কম জল ঘোলা হয়নি,রাখাইন প্রদেশে এই হিংসার শিকার শুধু রোহিঙ্গারাই নন। হিংসার ঘটনায় প্রায় ৮৬ জন হিন্দুও খুন হয়েছেন।  মায়ানমার সেনা ও আরাকান স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ)-র সংঘাতের  মাঝে পড়ে ভিটেমাটি ছেড়ে প্রাণের দায়ে পালিয়ে গিয়েছে প্রায় ২০০ হিন্দু পরিবার। মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা শরনার্থীরা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন।

এই শরণার্থীরা জানিয়েছে, শুধু রোহিঙ্গারাই নয় এই হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুরাও। বার্মা সেনা তাদের ঘরবাড়িও জ্বালিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ। রাখাইন প্রদেশের হিংসায় ১০০জনের মতো নিরীহ হিন্দুদের খুন করা হয়েছে বলে তাদের দাবি। বর্তমানে এই শরণার্থীরা ঘরবাডি ছেড়ে বাংলাদেশের কক্স বাজারে আশ্রয় নিয়েছে। 

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের কাছ থেকে জানা গেছে রাখাইন প্রদেশে মৃতদের বেশিরভাগই সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম। পালিয়ে আসা এক শরণার্থী কালু শীল জানিয়েছে, সেনা এবং ARSA বহু মানুষের গলার নলি কেটে এবং অস্ত্রের কোপ বসিয়ে খুন করেছে। খুন করার পর তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। অপর এক শরণার্থী রমানি ধর জানিয়েছে, কিছু মুখোশধারী লোক এসে তাদের গ্রামে তাণ্ডব চালিয়েছে। 
মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থী কালু সীল বলেছেন, হামলার লক্ষ্য প্রধানত রোহিঙ্গা মুসলিমরাই। কালু সীল আরও বলেছেন, মায়ানমার সেনা ও এআরএসএ তাঁদের গ্রামে হামলা চালায়।  এরপর ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
রমানি ধর নামে এক শরনার্থীকে উদ্ধৃত করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের হিন্দু-বৌদ্ধ-ক্রিশ্চান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, হিন্দু শরণার্থীর সংখ্যা ৫১০। মায়ানমারের মাংডু জেলায় গত ২৭ ও ২৮ আগস্ট মুখোশ পরিহিত একদল লোক তাঁদের বাড়িতে হানা দিয়ে হত্যাকাণ্ড চালায়।
দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, সাধারণ রোহিঙ্গাদের সঙ্গেই ওই হিন্দু উদ্বাস্তুরা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ পৌঁছেছেন।

আজ বুধবার রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বৈঠক হবে রাষ্টসংঘে। মায়ানমারের এই পরিস্থিতি এই মুহূর্তে আলোচিত হচ্ছে সমগ্র বিশ্বে। সমগ্র পরিস্থিতিতে মায়ানমার সরকারের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে। এই অবস্থায় সুইডেন এবং ব্রিটেনের অনুরোধে মায়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বলে জানানো হয়েছে রাষ্ট্রসংঘের তরফ থেকে।