সুরক্ষিত নয় অনলাইন ব্যাঙ্কিং পরিষেবও,ব্যাঙ্কের গাফিলতিও রয়েছে এটিএম প্রতারনা কান্ডে

সুরক্ষিত নয় অনলাইন ব্যাঙ্কিং পরিষেবও,ব্যাঙ্কের গাফিলতিও রয়েছে এটিএম প্রতারনা কান্ডে

এখনও সুরক্ষিত নয় ব্যাঙ্কের অনলাইন পরিষেবা। বিভিন্ন সময় জালিয়াতির শিকার হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন গ্রাহকরা। এতদিন ব্যাঙ্ককর্মী পরিচয়ে ফোন করে চলত টাকা হাতানোর কাজ। ক্রমশ প্রচারের ফলে সেই ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা গেছে। কিন্তুএখন সামনে আসছে ATM কার্ড জালিয়াতি করে টাকা হাতানোর ঘটনা।এটিএমে স্কিমার লাগিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা। কিন্তুপ্রতারকরা এই স্কিমার পেত কীভাবেতদন্তকারীরা জানতে পেরেছেনবিভিন্ন অনলাইন শপিং সাইটে এই স্কিমার বিক্রি হয়। কিন্তুতা কি আইন মেনে হয়এ নিয়েই এবার খোঁজ নিতে শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ।

কানাড়া ব‍্যাঙ্কের গোলপার্কের এটিএম থেকে যে প্রতারণা হয়েছেতা ইতিমধ‍্যেই জানতে পেরেছে পুলিশ। রেহাই পাননি ব‍্যাঙ্কের কর্মীরা। কানাড়া ব‍্যাঙ্কের গোলপার্ক শাখারই বারোজন কর্মীর দাবিতাঁরাও এটিএম জালিয়াতির শিকার। এরকম ভুরিভুরি অভিযোগ জমা পড়েছে। সংখ‍্যাটা বৃহস্পতিবার বেড়ে ৭৮। সূত্রের খবরতদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছেশুধু স্কিমার নয়এটিএমের কিবোর্ডের উপর খুব ছোট একটি ক‍্যামেরাও লাগাত প্রতারকরা। যাতে পিনটা জানা যায়। এভাবে প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকা প্রতারণা হয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। যার মধ‍্যে বেশিরভাগই তোলা হয়েছে দিল্লির এটিএম থেকে। তা হলে কি দিল্লিরই কোনও চক্র জড়িত। পুলিশ মনে করছেচার-পাঁচজনের দল অপারেশন চালাত।

প্রতিটি এটিএম কিয়স্কেই সিসি ক্যামেরা লাগানো থাকে। টাকা লুটের অভিযোগ আসার পর সেই ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখতে গিয়ে ধরা পড়েছে কলকাতার অন্তত দুটি ব্যাঙ্কের এটিএম কিয়স্কে কার্ডের তথ্য নকল করার যন্ত্র বসানো হয়েছিল এপ্রিলের গোড়াতেই। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাঙ্ক জালিয়াতি রুখতে বারবার করে ব্যাঙ্ক কর্তাদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরেও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের হুঁশ ফেরেনি বলেই অভিযোগ। নিয়মিত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হলে এই বিষয়টি তাদের আগেই চোখে পড়ত। সেক্ষেত্রে রোজগারের টাকা লুট হওয়া থেকে রেহাই পেতে পারতেন গ্রাহকরা। জানা গিয়েছে দুষ্কৃতীরা এটিএম যন্ত্রেই কার্ডের তথ্য কপি করার যন্ত্র বসিয়ে দিত। একটি কার্ড সোয়াইপ করে সেই যন্ত্রকে চালু করা হত। পরের রাতে আবার তা খুলে নেওয়া হত। ততক্ষণে সেই যন্ত্রে উঠে যেত বহু মানুষের এটিএম কার্ডের তথ্য। কলকাতার দুটি রক্ষীহীন এটিএম-এ দুই যুবককে এই যন্ত্র বসাতে দেখা গিয়েছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে। কিন্তু টুপিতে তাদের মুখের বেশিরভাগটাই ঢাকা থাকায় তাদের সনাক্ত করা যায়নি।