নিদা খান ও ফারহাত নাকভি, তিন তালাকের প্রতিবাদ করায় তাঁদের মাথা মুড়িয়ে পাথর ছোঁড়ার আবেদন

নিদা খান ও ফারহাত নাকভি, তিন তালাকের প্রতিবাদ করায় তাঁদের মাথা মুড়িয়ে পাথর ছোঁড়ার আবেদন

নিদা খান- এই নামটি দিনকয়েক আগেই খবরের শিরোনামে এসেছিল। নিদা খান, যিনি তিন তালাকের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন বলে মৌলবীদের ফতোয়ার সম্মুখীন হয়েছেন। ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের বরেলির। এরপর আরও একজন মুসলিম মহিলা মৌলবীদের চোখ রাঙানির শিকার হয়েছেন। তিনি হলেন ফারহাত নাকভি। ইনিও উত্তরপ্রদেশের বরেলির। তিন তালাকের প্রতিবাদ করায় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ঘোষণা করেন, এঁদের মাথা মুড়িয়ে দিয়ে পাথর ছুঁড়তে পারলে মিলবে আর্থিক পুরস্কার। বরেলির স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সারা ভারত ফৈজান-ই-মদিনা কাউন্সিলের প্রধান মনি সিদ্দিকি নুরি এই ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, দিন চারেক আগেই মৌলবিদের ফতোয়ার শিকার হয়েছেন নিদা খান নামের ওই মহিলা। স্বামী আহমেদ রেজা খানের পরিবারের লোকজনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বাপেরবাড়িতে ফিরে আসেন ওই গৃহবধূ। অভিযোগ, পণের দাবিতেই তাঁর উপরে অত্যাচার চালত স্বামীর বাড়ির লোকজন। তারপর একদিন তিন তালাকের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করে স্বামী আহমেদ রেজা খান।

বিবাহ বিচ্ছেদের পর শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে থানায় অভিয়োগ দায়ের করেন ওই মহিলা। একই সঙ্গে ২০১৬-তে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্টে মামলাও দায়ের করেন। প্রায় একই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে বিজেপি নেতা মুখতার আব্বাস নাকভির বোন ফারহাত নাকভিকেও। এই মুহূর্তে তিন তালাকের পর শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সঙ্গে আইনি লড়াই লড়ছেন ফারহাত। 

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ফৈজান-ই-মদিনা কাউন্সিলের প্রধান নুরি সাফ জানিয়ে দেন, দুই মহিলার মাথা মুড়িয়ে পাথর ছুঁড়ে মারতে পারলে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে। যে বা যারা এই কাজ করবেন তাঁরা প্যত্যেকে ১১ হাজার ৭৮৬ টাকা করে পাবেন।