হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করতে ধর্মান্তরিত হন মুসলিম যুবক, কিন্তু স্ত্রীর পরিবার মেনে নিল না

হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করতে ধর্মান্তরিত হন মুসলিম যুবক, কিন্তু স্ত্রীর পরিবার মেনে নিল না

হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করার জন্য নিজের ধর্ম পরিবর্তন করলেন এক মুসলিম যুবক। কিন্তু তাতেও একসাথে থাকতে পারলেন না তারা। তার স্ত্রীকে তার পরিবারের সদস্যরা নিয়ে গেলেন। 

জানা গিয়েছে, মহম্মদ ইব্রাহিম সিদ্দিকি নামে এক মুসলিম যুবক ধর্ম পরিবর্তন করে হিন্দু হয়েছিলেন এবং নিজের নাম রাখেন আরিয়ান আর্য। তাঁর স্ত্রীকে যখন তাঁর বাড়ির লোক ফিরিয়ে নিয়ে যায়, তখন ৩৩ বছরের ইব্রাহিম ওরফে আরিয়ান প্রথমে ছত্তিশগড় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু হাইকোর্ট ইব্রাহিমের আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর তিনি সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয়েছেন।  

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র এবং ডিওয়াই চন্দ্রচূড় ছত্তিশগড় সরকারকে দ্রুত ইব্রাহিমের আবেদনে সাড়া দেওয়ার জন্য বলেছেন। ইব্রাহিম তাঁর আবেদনে জানিয়েছেন, তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর স্ত্রীর স্বাধীনতায় পরিবার ক্রমাগত হস্তক্ষেপ করছে। স্ত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকেই এই হুমকি এসেছে বলে জানান ইব্রাহিম। 

আবেদন অনুযায়ী, ইব্রাহিমের স্ত্রী অঞ্জলি জৈন হাইকোর্টকে জানিয়েছিলেন যে তাঁর বয়স ২৩ বছর এবং তিনি নিজের ইচ্ছাতেই ইব্রাহিমকে বিয়ে করেন। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্ট জানিয়েছিল যে, অঞ্জলিকে অভিভাবকের সঙ্গে থাকতে হবে নয়ত বা হস্টেলে থাকতে হবে।

সেখানে ইব্রাহিম জানান, বিয়ের আগে তাঁদের মধ্যে ২-৩ বছরের সম্পর্ক ছিল। চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি ইব্রাহিম তাঁর ধর্ম পরিবর্তন করে হিন্দু হন এবং নাম রাখেন আরিয়ান। এরপরই তিনি ২৫ ফেব্রুয়ারি অঞ্জলির সঙ্গে বিবাহ করেন। বিয়ের পর অঞ্জলি তাঁর বাড়িতে ফিরে আসে এবং বিয়ের ব্যাপারে কিছু জানায় না। অঞ্জলি এরপর সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি তাঁর অভিভাবকদের কিছু না জানিয়েই বাড়ি ছেড়ে দেবেন। ৩০ জুন তিনি বাড়ি ছাড়েন। কিন্তু তাঁর পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশে খবর দেয়। অঞ্জলি তাঁর স্বামীর সঙ্গে দেখা করার আগেই পুলিশের কাছে ধরা পড়ে যায়। পুলিশ অঞ্জলিকে মহিলাদের হোমে নিয়ে যায়। 

ইব্রাহিম অভিযোগ করেন, পুলিশ জোর করে মিথ্যা বয়ান নিয়ে অঞ্জলির কাছ থেকে। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট ইব্রাহিমের পক্ষ নিয়ে ছত্তিশগড় সরকারকে বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ করেছে।