নিকাহ হালালার অছিলায় উত্তরপ্রদেশের মীরাটে গৃহবধূকে ধর্ষণ করলো শ্বশুর ও ননদের স্বামী

নিকাহ হালালার অছিলায় উত্তরপ্রদেশের মীরাটে গৃহবধূকে ধর্ষণ করলো শ্বশুর ও ননদের স্বামী

তাৎক্ষণিক তিন তালাক প্রথাকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছে শীর্ষ আদালত। যাতে করে দেশের মুসলিম মহিলাদের সুদিন ফিরে এলো বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও অবহেলিত ও অত্যাচারিত হচ্ছেন মুসলিম মহিলারা। এবার আরও একটি ঘটনা সমানে এলো তাও আবার সেই যোগীর রাজ্য উত্তরপ্রদেশে। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের প্রতিবাদ করেছিলেন বলে এক মহিলাকে তিন তালাক দেওয়া হয়েছে৷ সুবিচারের আশায় বাধ্য হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই মহিলা৷

জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের মীরাটের বাসিন্দা এক যুবকের সাথে বিয়ে হয়েছিল এই মহিলার। সেটা ২০১৫ সালে। কিন্তু অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবি করত শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর শারীরিক ও মানষিক অত্যাচার চালাতেন৷ স্বামীর পরোক্ষে মদত ছিল তাতে৷ বাপেরবাড়ির আর্থিক সামর্থ্যও বিশেষ ছিল না মহিলার৷ তাই শ্বশুরবাড়ির দাবিপূরণ করতে পারতেন না মহিলা৷ বাধ্য হয়ে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতে হত তাঁকে৷ অভিযোগ, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের টাকার দাবিতে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করত গৃহবধূকে৷ দিনকয়েক আগে গর্ভবতী হয়ে পড়েন মহিলা৷ তা সত্ত্বেও ঠিকমত খেতে দেওয়া হত না তাঁকে৷

বৃহস্পতিবার অত্যাচার চরমে পৌঁছায়৷ প্রতিদিনের মতো সেদিনও প্রথমে বেধড়ক মারধর করা হয় মহিলাকে৷ গৃহবধূর অভিযোগ, নিকাহ হালালার অছিলায় শ্বশুর ধর্ষণ করে তাকে৷ তাতে বাধা দেননি শাশুড়িও৷ শ্বশুরের নৃশংস অত্যাচারের কথা স্বামীকে জানাননি ওই মহিলা৷ কিন্তু তাতেও রেহাই পাননি তিনি৷ এরপর শনিবার একইভাবে প্রথমে মারধর ও পরে ননদের স্বামীও ধর্ষণ করে তাকে৷ স্বামী বাড়ি ফেরার পর ধর্ষণের কথা জানান নির্যাতিতা৷ অভিযোগ শুনে তাকে মারধর করে তিন তালাক দেয় সে৷  

এরপরই মীরাট থানায় যান মহিলা৷ স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি৷ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৩৭৬, ৩৪২, ৪৯৮ এ, ৩২৩ ও ৫০৬ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে৷ ঘটনার পর থেকে ফেরার অভিযুক্তরা৷ তাদের খোঁজ চলছে৷