মুসলিমরা লন্ঠনের আলো দেখালে তবেই নিরঞ্জন প্রক্রিয়া শুরু হয় চাঁচোলের রাজবাড়ির প্রতিমার

মুসলিমরা লন্ঠনের আলো দেখালে তবেই নিরঞ্জন প্রক্রিয়া শুরু হয় চাঁচোলের রাজবাড়ির প্রতিমার

সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ চাঁচোলের হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়। সেখানে দূর্গাপ্রতিমার নিরঞ্জন হয় লন্ঠনের এল দেখে। আর সেই লন্ঠনের এল দেখানোর দায়িত্বে থাকেন মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। সন্ধ্যা নামার আগেই হাতে লন্ঠন নিয়ে ওরা হাজির। বিসর্জনের সময় ওদের অনেক দায়িত্ব। সূর্যাস্তের আগে লন্ঠন জ্বালিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের এই প্রতিনিধিরা মাকে আলো দেখালেই দেবীকে বিদায় জানানো হয়। মালদহের চাঁচোলে মহানন্দা নদীর সতীঘাটের পশ্চিম পাড়ে প্রতি বছর দেখা যায় এই সম্প্রীতির ছবি।
মালদহের চাঁচোলের পাহাড়পুর এজন্যই স্বতন্ত্র। চাঁচোলের রাজবাড়ির পুজোর এও এক বৈশিষ্ট্য বলে মনে করেন চাঁচোল রাজ ট্রাস্ট এস্টেটের কর্তারা। কীসের টানে বিসর্জনের মহানন্দার পারে আসেন। জানা গেল, পূর্ব-পুরুষদের দেখানো পথেই তাঁরা দেবীকে আলো দেখিয়ে বিদায় জানান। এতে পরিবারে সুখ-শান্তি আসে বলেই তাঁদের বিশ্বাস। চাঁচোলের পাহাড়পুরের সাহুরগাছি গ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের বাস। বিসর্জনের শোভাযাত্রায় এধরনের সম্প্রীতিতে মুগ্ধ এক গৃহবধূ জানান, আগে শুনেছিলাম, এখানে রাজবাড়ির দেবীকে মুসলিমরা বিসর্জন ঘাটে আলো দেখান। আজ স্বচক্ষে দেখলাম। দারুণ অভিজ্ঞতা হল। পরম্পরা এখনও বজায় রেখেছেন সাহুরগাছির বাসিন্দারা।
অতীতে লন্ঠন বা হ্যারিকেনের সংখ্যা অনেক বেশি থাকত। এখন খানিকটা কমেছে। এখন বাজারে সেভাবে হ্যারিকেন পাওয়া যায় না। তাই অনেকে লন্ঠনের বদলে এলইডি লাইট নিয়ে আসেন। প্রায় তিনশো বছর ধরে এই প্রথা চলে আসছে। চাঁচোল রাজবাড়ির এই পুজোর ঐতিহ্য এখনও একইরকম। পুজোর টানে এবারও বাইরে থেকে প্রচুর দর্শনার্থী এসেছিলেন। রাজ আমলের নিয়ম-রীতি মেনেই পুজো হয়। মূল পুজোর ১২ দিন আগে কৃষ্ণা নবমী তিথিতে তামার ঘট ভরে পুজো শুরু হয়ে ছিল পাহাড়পুরের চন্ডীমণ্ডপে। দেবী এখানে চতুর্ভুজা সিংহবাহিনী।