সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বিক্ষোভ মেটাতে প্রতিনিধি দল গঠনের সিদ্ধান্ত

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বিক্ষোভ মেটাতে প্রতিনিধি দল গঠনের সিদ্ধান্ত

সুপ্রিম কোর্টের বিক্ষুব্ধ চার বিচারপতিদের ক্ষোভ মেটাতে সরকার যে কোনো রকমভাবে হস্তক্ষেপ করবে না, এমনটা গতকালই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই বিষয়ে আজ সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গড়ার সিদ্ধান্ত নিল বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। তাঁরাই চার বিক্ষুব্ধ বিচারপতির সঙ্গে দেখা করবেন। তাঁদের অভাব-অভিযোগ নিয়ে কথা বলে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করবেন। বাকি বিচারপতিদের সঙ্গেও কথা বলা হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই সমস্যা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হবে বলেই জানানো হয়েছে।
দেশের মানুষের ভরসার জায়গাটি যে এভাবে কালিমালিপ্ত হতে পারে তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। স্বাধীনতাত্তোর ভারতে বলা যেতে পারে এটাই প্রথমবার। প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মুখ খোলেন চার বিচারপতি। অভিযোগ, তাঁদের ঠিকঠাক করে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পছন্দের বিচারককে দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে তাঁরা প্রধান বিচারপতিকে চিঠিও দিয়েছিলেন। যদিও তাতে সমস্যার সুরাহা হয়নি। তারপরই গণতন্ত্রের স্বার্থে তাঁরা সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলার সিদ্ধান্ত নেন। 
শুক্রবারের এই ঘটনা রীতিমতো চমকে যায় দেশবাসী। দেশের বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাওয়ার পক্ষে এ ঘটনা যথেষ্টও। রাহুল গান্ধীর মতো বিরোধীরা এই ইস্যুকে ছেড়ে দেয়নি। বরং যে বিচারপতি লোয়ার মৃত্যু মামলা নিয়ে এই টানাপোড়েন সেখানে জড়িয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের নাম। তাই তা বিচারপতি অরুণ মিশ্রের বেঞ্চে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তাতে জমি পেয়ে যান রাহুল গান্ধী। কিন্তু দেশের বিচারব্যবস্থাই যখন সন্দেহের মুখে পড়ে, তখন গণতন্ত্রই যে প্রশ্নের মুখে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
জট কাটাতে আজই বৈঠকে বসেন বার কাউন্সিলের সদস্যরা।