আরুষি হত্যা মামলায় প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস তলোয়ার দম্পতি

আরুষি হত্যা মামলায় প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস তলোয়ার দম্পতি

আরুষি হত্যা মামলায় বেকসুর খালাস হলো তলোয়ার দম্পতি। আরুষি হত্যা মামলা সংক্রান্ত মামলায় সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত যে রায় দিয়েছিল তা খারিজ করে দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। বেকসুর খালাস পেলেন চিকিৎসক দম্পতি রাজেশ ও নুপূর তলোয়ার। এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানিয়েছে, আরুষি ও হেমরাজকে যে ওই চিকিৎসক দম্পতি খুন করেছেন, তার কোনও অকাট্য প্রমাণ দিতে পারেনি সিবিআই। তবে এলাহাবাদ হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আবেদন জানাতে পারে সিবিআই বলে সূত্রে খবর।
২০০৮ সালের ১৬ মে। নয়ডায় তলোয়ার দম্পতির বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তাঁদের একমাত্র মেয়ে ১৪ বছরের আরুষির গলাকাটা দেহ। প্রাথমিকভাবে বাড়ির কাজের লোক হেমরাজই আরুষিকে খুন করেছে বলে সন্দেহ করেছিল পুলিশ। কিন্তু, পরের দিনই তলোয়ার দম্পতির বাড়ির বারান্দা থেকে উদ্ধার হয় হেমরাজের দেহ। অভিযোগের তির ঘুরে যায় তলোয়ার দম্পতির দিকে। উত্তরপ্রদেশের পুলিশ দাবি করে, আরুষির সঙ্গে বাড়ির কাজের লোক হেমরাজের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাঁদের দু'জনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেছিলেন আরুষির বাবা রাজেশ তলোয়ার। তাই পরিবারের সম্মান রক্ষায় নিজের মেয়ে ও বাড়ি কাজের লোককে খুন করেছেন তলোয়ার দম্পতি। ঘটনার সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় উত্তরপ্রদেশ সরকার। সম্মানরক্ষায় খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় রাজেশ ও নূপূর তলোয়ারকে। পারিপার্শ্বিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তলোয়ার দম্পতির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় সিবিআই। ২০১৩ সালে নিজের মেয়ে ও বাড়ির পরিচারককে খুন করার অভিযোগে তলোয়ার দম্পতিকে দোষী সাব্যস্ত করে সিবিআই আদালত। যাবজ্জীবন সাজা হয় দু'জনের।
সিবিআইয়ের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এলাহাবাদ হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন রাজেশ ও নুপূর তলোয়ার। বৃহস্পতিবার সেই আবেদনই মঞ্জুর করল আদালত। মেয়েকে খুনের অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেন তলোয়ার দম্পতি। কিন্তু, কীসের ভিত্তিতে তলোয়ার দম্পত্তি বেকসুর খালাস দিল এলাহাবাদ হাই কোর্ট?  বিচারপতি জানিয়েছেন, হেমরাজ ও আরুষিকে যে তলোয়ার দম্পতি খুন করেছেন, এমন কোনও অকাট্য প্রমাণ সিবিআই পেশ করতে পারেনি।