ধর্ষকদের ক্ষমা করলেন না রাষ্ট্রপতি

ধর্ষকদের ক্ষমা করলেন না রাষ্ট্রপতি

আগামী ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির কার্যকালের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। কিন্তু বিদায়বেলায়ও তিনি প্রমান রাখলেন যে কিছু অপরাধ ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য নয়। গতসপ্তাহে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় আরও দু'টি প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজ করে দিয়েছেন। এ পর্যন্ত তাঁর কাছে আসা মোট ৩০টি প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজ করেছেন তিনি। 
রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নজর কাড়া  বেশ ক'টি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ফাঁসি রদের আর্জি খারিজ করেছেন তিনি। ২০০৮ সালে মুম্বইয়ে ২৬/১১-য় হামলা চালানো পাক জঙ্গিদের অন্যতম আজমল কসাব,  ২০০১-এ সংসদ হামলার চক্রী আফজল গুরু, চন্দনদস্যু বীরাপ্পনের সঙ্গী সাইমন, জ্ঞানপ্রকাশ, মাদাইয়া ও বিলাবন্দ্রন এদের অন্যতম। কসাবের ফাঁসি হয়েছে ২০১২ সালে। আফজল গুরুকে ফাঁসি দেওয়া হয় পরের বছর। সর্বশেষ যে দু’টি আর্জি প্রণববাবু খারিজ করলেন, তার দু'টিই ধর্ষণ করে খুন করার ঘটনা।
পুণেতে ২০০৭ সালে পুরুষোত্তম দশরথ নামে এক ট্যাক্সিচালক ও তার সঙ্গী প্রদীপ যশোবন্ত কোকাড়ে ২২ বছর বয়সি এক মহিলাকে ধর্ষণ ও খুন করে। ওই মহিলা রাতের শিফটে কাজ করতে অফিসে যাচ্ছিলেন। নিম্ন আদালত দু’জনকেই চরমদণ্ড দিলে প্রথমে বম্বে হাইকোর্ট ও পরে ২০১৫ সালের ৮ মে-র রায়ে সুপ্রিম কোর্ট তা বহাল রাখে।
ইনদওরে ২০১২ সালে  ৪ বছর বয়সি একটি শিশুকে তিন জনে মিলে ধর্ষণ ও খুন করেছিল। প্রথমে শিশুটিকে তার এক আত্মীয়ের বাড়ির সামনে থেকে অপহরণ করে জীতেন্দ্র, বাবু ও সানি। এর পরে ধর্ষণ করে মেয়েটিকে গলা টিপে খুন করে তারা। দেহটি ফেলে দেয় নর্দমায়। এক বছরের মাথায় ইনদওরের আদালত তিন জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। ২০১৪ সালে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ও পরে ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারির রায়ে সুপ্রিম কোর্ট তা বহাল রাখে।
এই দু’টি ক্ষেত্রেই প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজ করেছেন রাষ্ট্রপতি। গত জানুযারি মাসের একটি হিসেবে দেখা যাচ্ছে, সে সময় পর্যন্ত তাঁর কাছে এসেছিল ৩২টি আর্জি। তার ২৮টিই খারিজ করেছেন তিনি। খারিজের তালিকায় আরও দুই যোগ হলো এ বারে। দেশের ইতিহাসে যা এক রেকর্ড। রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রণব মুখোপাধ্যায় সন্ত্রাসবাদী ও ধর্ষকদের প্রতি ক্ষমাহীন থেকেছেন বরাবর।