কর্ণাটকে বিজেপিকেই সরকার গড়তে আহ্বান রাজ্যপালের, ব্যাকফুটে কংগ্রেস

কর্ণাটকে বিজেপিকেই সরকার গড়তে আহ্বান রাজ্যপালের, ব্যাকফুটে কংগ্রেস

শেষ পর্যন্ত যা দাঁড়ালো তাতে কর্নাটকে সরকার গড়ছে বিজেপিই। রাজ্যের রাজ্যপাল বিজেপিকে সরকার গড়ার জন্য আহ্বান জানালেন। গতকাল বিকেলে যা পরিস্থিতি ছিল তাতে একপ্রকার ঠিকই হয়ে গিয়েছিল যে কংগ্রেস সরকার গড়তে চলেছে। কিন্তু তারপরই খেলা অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করে। বিজেপি যে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না সেটা প্রত্যাশিত। কংগ্রেস জেডিএস-এর সঙ্গে জোট করেও মসনদে দখল করতে ব্যর্থ। একক বৃহত্তম দল হিসেবে বিজেপিকেই সরকার গড়ার আহ্বান জানালেন কর্ণাটকের রাজ্যপাল। সেক্ষেত্রে হয়তো আগামিকালই মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন ইয়েদুরাপ্পা।

গতকাল ছিল কর্ণাটকের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। দিনের শুরু থেকেই যা ট্রেন্ড দেখা গিয়েছিল তাতে দেখা গিয়েছিল বিজেপিই ক্ষমতাই আসতে চলেছে। ৯৯ টি আসন পেলেও ম্যাজিক ফিগার থেকে অনেকটাই দুরে ছিল বিজেপি। ম্যাজিক ফিগার ১১২। কংগ্রেস ছিল আরও অনেকটা দুরে। ফলত গোটা দিন ধরেই চলে চূড়ান্ত নাটক। উঠেছে ঘোড়া কেনাবেচার অভিযোগও। 

এইচডি কুমারস্বামী সাফ জানিয়েছেন, তাঁদের বিধায়ককে মাথাপিছু ১০০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিজেপি। তবে তাতেও শেষপর্যন্ত কোনও জেডিএস বিধায়ক গেরুয়া শিবিরে মাথা গলিয়েছেন বলে সন্ধে পর্যন্ত খবর নেই। এই অবস্থায় যখন গলদঘর্ম বিজেপির কর্ণাটকের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা প্রকাশ জাভড়েকর, তখন তাঁকে বাঁচিয়ে দিল সরকারিয়া কমিশনের রিপোর্ট। ত্রিশঙ্কু অবস্থায় রাজ্যপালের কাছে দুটি রাস্তা খোলা ছিল। এক, কংগ্রেস-জেডিএস জোটকে সরকার গড়তে ডাক পাঠানো। কিন্তু চিরকালের অভিযোগ এতে গণতন্ত্র ভূলুন্ঠিত হয়। কারণ দুটি দল জোট করে অঙ্কের বিচারে এগিয়ে গেল ঠিকই, কিন্তু জনতার রায় তাতে অপমানিত হল। কেননা মানুষের সমর্থন অন্য দলের পক্ষে। যে দল একক বৃহত্তম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সুতরাং সরকার গড়ার অধিকার থাকা উচিত তারই। 

সরকারিয়া কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ীই এক্ষেত্রে বিজেপিকে ডাক পাঠাচ্ছেন সংঘ পরিবারের ঘনিষ্ঠ তথা এককালের গুজরাটের মোদী মন্ত্রিসভার অন্যতম মুখ বাজুভাই বালা।

ত্রিশঙ্কু অবস্থায় সরকার গড়ার দাবিদার অনেকেই। কিন্তু কোনটিকে অগ্রাধিকার দেবেন রাজ্যপাল তার একটি তালিকা করে দেয় কমিশন। যেমন, ভোটের আগে যদি একাধিক দলের জোট হয়, তবে সেই জোট পরে অগ্রাধিকার পাবে সরকার গড়ার ক্ষেত্রে। এরপরই আসছে একক বৃহত্তম দলের কথা। তারাও যদি অন্য কোনও দলের সমর্থনে বা নির্দলের সমর্থন জোটাতে পারে তবে তারাই সরকার গড়বে। ঠিক এই জায়গাতেই জিতে যাচ্ছে বিজেপি। কারণ, কংগ্রেস ও জেডিএস ভোটের আগে জোট করেনি। ফলে এক্ষেত্রে তারা অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে যেতে পারে। 

উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও গতকাল বলেছিলেন যে জেডিএস-এর সাথে যদি জোট করে এগত কংগ্রেস তাহলে ফলটা অন্যরকম হত। এরপর আগামীকাল কি হয় এখন সেটাই নজর রাখছে কন্নড়ভূমের মানুষ ও গোটা দেশ।