ভারত রোহিঙ্গাদের জায়গা না দিলেও নাগরিকত্ব পাবে ১ লক্ষ চাকমা-হাজং

ভারত রোহিঙ্গাদের জায়গা না দিলেও নাগরিকত্ব পাবে ১ লক্ষ চাকমা-হাজং

মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ভারত আশ্রয় দেবে না, এমনটা জানিয়ে দিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু ভারতের এই সিদ্ধান্তের জেরে কড়া নিন্দা করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। পাল্টা জবাব দিয়ে নয়াদিল্লি জানিয়েছে, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে রেখেছে ভারতই। কিন্তু এই চাপানউতোরের মধ্যেই চাকমাদের নিয়ে অন্য কথা বলছে সরকার। বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে আসা চাকমা এবং হাজংদের সরাসরি ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্ট ২০১৫ সালেই চাকমা ও হাজংদের নাগরিকত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। অরুণাচল প্রদেশের সরকার এই রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানালে সুপ্রিম কোর্ট সে আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের সেই রায়ের প্রায় দু'বছর পরে নির্দেশ রূপায়ণে উদ্যোগী হল কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ বিষয়টি নিয়ে বুধবার বৈঠক ডেকেছিলেন। সে বৈঠকে অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু জানান, চাকমা-হাজং জনগোষ্ঠীর প্রায় এক লক্ষ মানুষ অরুণাচলে রয়েছেন। তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হলে অরুণাচলের জনবিন্যাস বদলে যাবে এবং অর্থনীতির উপর প্রভাব পড়বে। রাজ্যের মানুষ এতে খুশি হবেন না এবং অশান্তি হতে পারে বলেও মুখ্যমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে অমান্য করা যায় কি করে। তাই আপাতত চাকমাদের নাগরিকত্ব দিলেও সম্পত্তির অধিকার দেওয়া হবে না বলে স্থির হয়েছে।
চাকমারা ধর্মবিশ্বাসে বৌদ্ধ এবং হাজংরা হিন্দু। পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং লাগোয়া মায়ানমারই তাঁদের আদি ভূমি। কিন্তু ধর্মবিশ্বাসের কারণে প্রথমে পূর্ব পাকিস্তানে এবং পরবর্তী কালে বাংলাদেশে চাকমা ও হাজংদের নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। ফলে সীমান্ত পেরিয়ে তাঁরা উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় তাঁরা রয়েছেন অরুণাচলেই।