গুজরাট দাঙ্গার সময় বাঁচানো যেত ৩০০ জনের প্রাণ, আক্ষেপ করে বললেন সেনাবাহিনীর প্রাক্তন জেনারেল

গুজরাট দাঙ্গার সময় বাঁচানো যেত ৩০০ জনের প্রাণ, আক্ষেপ করে বললেন সেনাবাহিনীর প্রাক্তন জেনারেল

গুজরাট দাঙ্গার সময়ে ৩০০ জনের প্রান বাঁচানো যেত। আক্ষেপ করে বললেন সেনাবাহিনীর প্রাক্তন জেনারেল জামিরউদ্দিন শাহ। বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট না হলে অন্তত ৩০০ জন মানুষ বাঁচতে পারতেন।

প্রাক্তন এই সেনা জেনারেল ‘ক্যাপ্টেন জুম’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আর কিছুদিন পর তাঁর লেখা একটি বই প্রকাশিত হতে চলেছে। সেই বইয়ে গুজরাট দাঙ্গার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। এক বেসরকারি জাতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,'' ‌৩৪ ঘন্টা কিছুই করতে পারিনি। আমাদের এরকম সময় নষ্ট না হলে কতগুলি প্রাণ বাঁচানো যেত। আমরা বন্দুকের আওয়াজ শুনতে পেলাম কিন্তু কিছুই করতে পারলাম না।'' 

‘সরকারি মুসলমান’ নামক তাঁর যে বই প্রকাশিত হতে চলেছে সেখানে তিনি লিখেছেন,'' ‌১ মার্চ রাত দুটোয় গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে যাই। সেখানে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আমি সেখানে পৌঁছেই আমাদের কী কী দরকার সেগুলি বলি। সেনার দলকে দ্রুত কাজে নামানোর জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন করি। আমাদের সব কিছু সময়মতো দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়। ১ মার্চ সকাল সাতটা তিন হাজার জওয়ান নিয়ে সেনা দল আমেদাবাদ পৌঁছই। কিন্তু সময়মত যানবাহন না পাওয়ায় আমরা নড়তে পারিনি। পরেরদিন আমাদের কাছে সব কিছু পৌঁছয় তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য নামি। ততক্ষণে পরিস্থিতি অনেকটাই আয়ত্তের বাইরে চলে গিয়েছে।'' 

উল্লেখ্য, গুজরাট দাঙ্গা হয়েছিল ২০০২ সালে। সেই বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি গোধরায় ট্রেনে আগুন লাগার ফলে মৃত্যু হয় অন্তত ৫৯ জন করসেবকের। তার পরেরদিন থেকেই গুজরাট জুড়ে শুরু হয়ে যায় ভয়াবহ দাঙ্গা। অন্তত ১ হাজার ৪৪ জন প্রাণ হারান। যাঁদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের। 

জামিরউদ্দিনের দাবি, ''করসেবকদের দেহ গোধরা থেকে আমেদাবাদ নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। এরকম করলে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ এবং প্রতিহিংসার সৃষ্টি হবেই। আর সেটাই হল। ওটা না করলে এই ঘটনার রেশ এতটা মারাত্মক হত না।'' ‌