গুজরাট দাঙ্গার ঘটনায় অস্বস্তিতে মোদী, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা শীর্ষ আদালতে

গুজরাট দাঙ্গার ঘটনায় অস্বস্তিতে মোদী, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা শীর্ষ আদালতে

গুজরাট দাঙ্গা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী তথা গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেড় দশক আগে ঘটে যাওয়া গুজরাট দাঙ্গা নিয়ে আজ নতুন করে অস্বস্তিতে নরেন্দ্র মোদী। কারণ, গুজরাট দাঙ্গা মামলায় মোদীকে নিষ্কৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন প্রাক্তন সাংসদ এহসান জাফরির স্ত্রী জাকিয়া জাফরি। সেই মামলা গ্রহণ করেছে শীর্ষ আদালত। আগামী সোমবার মামলার প্রথম শুনানি। 

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০২ সালে। দাঙ্গা চলাকালীনই নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ এহসান জাফরিকে। আহমেদাবাদের গুলবার্গ সোসাইটির কুখ্যাত গণহত্যায় মৃত ৬৯ জনের তালিকায় ছিলেন এহসানও। তারপর থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তথা গুজরাট বিজেপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে লাগাতার আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর স্ত্রী জাকিয়া জাফরি।

২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার জন্য নরেন্দ্র মোদীই দায়ী, এমনটাই দাবি বিরোধীদের।কারণ, দাঙ্গা রুখতে উপযুক্ত পদক্ষেপ করেননি বলেও অভিযোগ উঠেছিল। এ নিয়ে বিস্তর তদন্তও হয়। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচিত বিশেষ তদন্তকারী দল (স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম) মোদী-সহ গুজরাটের শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ খারিজ করে তাঁকে ক্লিনচিট দেওয়া হয়। ততদিনে মোদী প্রধানমন্ত্রী হয়ে গিয়েছেন।

স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীরা আবারও তদন্ত প্রভাবিত করার অভিযোগ আনেন। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রথমে গুজরাট হাই কোর্টে মামলা করেন জাকিয়া জাফরি। কিন্তু গুজরাট হাইকোর্ট তাঁর সেই পিটিশন খারিজ করে দেয়। এবার গুজরাট হাই কোর্টের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতে আবেদন করেন জাকিয়া। 

সর্বোচ্চ আদালত মঙ্গলবার জানিয়ে দেয় আগামী সোমবার মামলার প্রথম শুনানি হবে। বিচারপতি এ এম খানউইলকরের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ মামলা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিচারপতি খানউইলকর জানিয়েছেন, মুখবদ্ধ খামে পেশ করা সিটের রিপোর্ট আর একবার খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা আছে। তাই সোমবার মামলা ফের শোনা হবে।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গায় সরকারি হিসেবে ১ হাজার ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৭৯০ জন মুসলিম সম্প্রদায়ের। ২২৩ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের। যদিও বেসরকারি হিসেব অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ছিল ২ হাজারেরও বেশি।