বায়ুসেনা দিবসে স্মরণ করা হল ভারতের প্রথম মুসলিম বায়ুসেনা প্রধানকে

বায়ুসেনা দিবসে স্মরণ করা হল ভারতের প্রথম মুসলিম বায়ুসেনা প্রধানকে

সোমবার বায়ুসেনা দিবস উপলক্ষে শ্রদ্ধা জানানো হল এক প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধানকে। যিনি পাকিস্তানের প্রলোভনে পা দেননি এবং গর্বের সাথে মাথা উঁচু করে কর্মজীবনের শেষদিন পর্যন্ত দেশের হয়ে কাজ করে গিয়েছেন। দেশের সেই বীর সন্তান হলেন ইদ্রিস হাসান লতিফ। ১৯২৩-র ৯ জুন অবিভক্ত ভারতের হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণ করেন ইদ্রিস হাসান লতিফ। সাড়ে সতেরো বছর বয়সে ভারতীয় বায়ুসেনায় যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করেন তিনি৷ ১৯৪১-এ সুযোগ পান৷ প্রশিক্ষণ শেষে অবিভক্ত ভারতের করাচিতে পোস্টিং হয় তাঁর৷ 

এরপর ১৯৪৩-তে ব্রিটেনে বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য পাঠান হয় তাঁকে৷ ব্রিটিশ সেনার ব়্যাফ স্কোয়াড্রনে যোগে দেন তিনি৷ এরপর ১৯৪৪-এ বার্মা ফ্রন্টে যোগ দেন তিনি৷ সেখানে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করার পর সাবেক মাদ্রাজে পাঠানো হয় তাঁকে৷ সেখানেই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় আশগর খানের৷ যিনি পরবর্তীকালে পাক বায়ুসেনা প্রধান হন৷ ১৯৪৬-এ ভারতীয় সেনার হয়ে ব্রিটেনে বিশেষ প্যারেডে অংশ নেন তিনি৷

এরপর দেশভাগের পরিস্থিতি তৈরি হলে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয় ইদ্রিস হাসান লতিফকে৷ কিন্তু তাঁকে পাকিস্তান বায়ুসেনায় যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন আশগর খান ও নুর খান৷ কিন্তু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করে ভারতীয় বায়ুসেনায় যোগ দেন তিনি। ১৯৫০-এর ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রথম সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজেও অংশগ্রহণ করেন তিনি৷ ১৯৬৫-তে তাঁর রণকৌশলেই পাকিস্তানকে পরাস্ত করে ভারত৷ ১৯৭১-এ ভারত-চিন যুদ্ধেও ভারতীয় বায়ুসেনাকে নেতৃত্ব দেন তিনি৷ ১৯৭৮-এ প্রথম মুসলিম বায়ুসেনা প্রধান হন লতিফ৷

ভারতীয় সেনায় জাগুয়ার ও মিগ যুদ্ধবিমানের অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন প্রাক্তন এয়ার চিফ মার্শাল ইদ্রিস হাসান লতিফ৷ অবসরের পর মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল পদে ১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত কাজ করেছেন দেশের এই বীর সন্তান৷ 

চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল ৯৪ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ভারতের এই বীর জওয়ান৷ ভারতীয় বায়ুসেনার প্রতিষ্ঠা দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। 

সোমবার আরও অনেক জওয়ানকে স্মরণ করা হয়।