নাবালিকা স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গম ধর্ষণ বলে গণ্য হবে, আজ ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট

নাবালিকা স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গম ধর্ষণ বলে গণ্য হবে, আজ ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট

নাবালিকা স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করলেও সেটা ধর্ষণ বলে গণ্য হবে। নাবালিকাদের নিগ্রহ রুখতে ঐতিহাসিক রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত। বুধবার ঐতিহাসিক রায়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানাল, নাবালিকা স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গমও ধর্ষণ বলেই গণ্য হবে। সম্মতি ছাড়া সঙ্গম বৈবাহিক ধর্ষণের পর্যায়ে পড়ে। কিন্তু নাবালিকাদের ক্ষেত্রে এই সম্মতির প্রশ্ন বেশ জটিল ছিল। দেশে নাবালিকা বিবাহের ঘটনা কম নয়। কিন্তু ১৮ বছর বয়স না হলে, যৌন জীবনের ক্ষেত্রে এই সম্মতির প্রশ্ন আসে না। কেননা তার আগে প্রাপ্তবয়স্কের মর্যাদা পাওয়াটা দরকার। সেক্ষেত্রে যে সমস্ত নাবালিকাদের বিয়ে হচ্ছে, তারা বৈবাহিক ধর্ষণের শিকার হতে পারে এবং হয়ও বহুক্ষেত্রে। অর্থাৎ নাবালিকার সম্মতি ছাড়াও সঙ্গমে লিপ্ত হতে পারে তার স্বামী। সাধারণ ক্ষেত্রে যা ধর্ষণের সমতুল অপরাধ, তাই বিবাহের কারণেই ধর্ষণ বলে পরিগণিত হত না। যদিও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাবালিকা বিবাহের অভিযোগ দায়ের করা যেত, কিন্তু ধর্ষণের অভিযোগ আনা যেত না। উপরন্তু সঙ্গমের মতো বিষয়ে সম্মতি দেওয়া বা না দেওয়ার মতো মানসিক পরিণতিও থাকে না একজন নাবালিকার। ফলে বৈবাহিক ধর্ষণের কোপ তাদের উপরই বেশি পড়ে।
আজ সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিল, ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী কোনও বিবাহিত নাবালিকার সঙ্গে সঙ্গম ধর্ষণ হিসেবেই গণ্য করা হবে। সেখানে নাবালিকার সম্মতি থাকা বা না থাকার বিষয়টি ধর্ত্যব্যের মধ্যে আনা হবে না। তবে নাবালিকাকে ধর্ষণের এক বছরের মধ্যে অভিযোগ দায়ের করতে হবে।এতদিন পর্যন্ত স্ত্রীর বয়স পনেরো বছরের বেশি হলেই সঙ্গম বৈধ ছিল। কিন্তু এদিনের রায়ে তা অবৈধ বলে গণ্য হল। সর্বোচ্চ আদালত জানাল, সম্মতির ক্ষেত্রে বয়স কোনওভাবেই কমানো যাবে না। ফলে ১৮  বছরের নিচে স্ত্রীর বয়স হলে, এবং স্ত্রীর সঙ্গে যৌনতা স্থাপনই ধর্ষণের সমান অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।