পরিকাঠামোর অভাবে পরিষেবা মিলছে না রাজ্যের স্কিন ব্যাঙ্কে

পরিকাঠামোর অভাবে পরিষেবা মিলছে না রাজ্যের স্কিন ব্যাঙ্কে

দুর্ঘটনাজনিত কারণে বা অন্য কোনোভাবে ত্বক পুড়ে গেলে সেই ত্বক চিকিত্সার মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা যায়। রাজ্যে এই পরিষেবা রয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে। কিন্তু হাসপাতালে স্কিন ব্যাঙ্ক থাকলেও, সেখানে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকায় ত্বক প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। যার জেরে মৃত্যু হচ্ছে রোগীর। জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে পথ দুর্ঘটনায় জখম এক প্রৌঢ়ের ' ব্রেন ডেথ ' ঘোষণা করে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল। স্বাস্থ্য দফতরের অনুমতি নিয়ে চোখ ও ত্বক প্রতিস্থাপনের জন্য দেহ এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। একটি বেসরকারি হাসপাতাল চক্ষু সংরক্ষণের ব্যবস্থা করলেও ত্বক সংরক্ষিত করা যায়নি। অভিযোগ, হাসপাতাল জানায়, পর্যাপ্ত কর্মী নেই বলে ত্বক নেওয়া যাবে না।
পুড়ে যাওয়া রোগীদের সুস্থ করতে ২০১৩ সালে রাজ্যে একমাত্র স্কিন ব্যাঙ্ক তৈরি হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। কিন্তু সাড়ে চার বছর কেটে গেলেও পরিকাঠামো এখনও সেরকম উন্নত হয়ননি। এখনও পর্যাপ্ত কর্মীর অভাবে পরিষেবায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, কোনও ব্যক্তির ' ব্রেন ডেথ ' হওয়ার পরে তাঁর বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়। ত্বক এবং চোখ তৎক্ষণাৎ প্রতিস্থাপন না করলে সংরক্ষণ করা যায়। এ রাজ্যে দীর্ঘ দিন ধরেই ' আই ব্যাঙ্ক ' রয়েছে। যেখানে অঙ্গদাতার চোখ সংরক্ষিত থাকে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহার হয়। একই ভাবে অঙ্গদাতার দেহ থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ত্বক তুলে নিয়ে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বিশেষ কিছু রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহারে তা সংরক্ষণ করা হয়। পরে প্রয়োজন মতো সেই ত্বক রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করেন প্লাস্টিক সার্জেনরা। অঙ্গদাতার দেহ থেকে ত্বক তোলা এবং তাঁকে সংরক্ষণ করার জন্য যথেষ্ট সংখ্যক কর্মী জরুরি। কারণ এই সংরক্ষণের কাজ বেশ সময়সাপেক্ষ।
স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, এসএসকেএম হাসপাতালের স্কিন ব্যাঙ্কে এই কর্মীর অভাব রয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে, এক জন কর্মী ছুটি নিলে কাজ প্রায় থমকে যাচ্ছে। এক জন কর্মীকে টানা ছ'থেকে আট ঘণ্টার উপরে কাজ করতে হচ্ছে। কিন্তু দিনে একাধিক জনে ত্বক পাওয়া গেলেও কর্মীর অভাবে তা নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে দাতা পাওয়া গেলেও পরিকাঠামো পর্যাপ্ত না থাকার জেরে ত্বক সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। যার জেরে বহু অগ্নিদগ্ধ রোগী পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এই প্রসঙ্গে এসএসকেএম হাসপাতালের সুপার মনিময় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পরিষেবায় কোনও সমস্যা হচ্ছে না। তবে স্কিন ব্যাঙ্কের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো উন্নতির কাজ চলছে। স্বাস্থ্য দফতর পুরো বিষয়টি দেখছে।