বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েও ৪১ দিন বেঁচে শিশু

বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েও ৪১ দিন বেঁচে শিশু

আর পাঁচটা শিশুর মতোই বেড়ে উঠছে সে। কিন্তু স্বাভাবিক হয়েও সে স্বাভাবিক নয়। তাই আর কতদিন পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ পাবে সে- তা নিয়ে। সোনারপুর চণ্ডীতলার সেই শিশুর যার ব্রহ্মতালু ফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে মস্তিষ্কের একটা অংশ। যার আকার প্রায় তার শরীরের সমানই। মাথার বাইরে বেরিয়ে রয়েছে বৃহদাকার মাংস পিণ্ড। কলকাতার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন, শিশুটি বিরল প্রজাতির ' এনকেফালোসিল ' রোগে আক্রান্ত। ' অ্যানেনকেফালি উইথ এনকেফালোসিল ' কোটিতে একজন শিশুর হয় এই রোগ। তাঁরা স্পষ্ট বলে দিয়েছিলেন, এই রোগের কোনও চিকিৎসা নেই। অস্ত্রোপচারই একমাত্র পথ। কিন্তু অপারেশন করলে মারা যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। 
গত ২৮ আগস্ট ডা. এস পতির অধীনে জ্যোৎস্নাকে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। ৩১ আগস্ট এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি। সদ্যোজাতকে দেখার পরই চিকিৎসকরা চমকে ওঠেন। মাথার পিছন দিক থেকে বেরিয়ে মস্তিষ্কের অংশ। তবে আপাতত বাড়িতেই রয়েছে সে। নলের মাধ্যমে খাওয়ানো হয় তাকে। বুধবার ফের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে তাঁকে। চিকিৎসকরা শিশুর অবস্থা পরীক্ষা করে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন অস্ত্রোপচারের।
শ্রুতির বয়স এখন ৪১ দিন। আর সাধারণত এই রোগে আক্রান্ত শিশু সাতদিনের বেশি জীবিত থাকে না। ঠিক সেই কারণেই আশার আলো দেখছেন ছোট্ট শ্রুতির বাবা-মা ঝন্টু দাস ও জ্যোৎস্না দাস।