শিলিগুড়ির মল্লিকার অঙ্গ প্রতিস্থাপিত হলো ৩ জনের মধ্যে, তাদের মধ্যে বেঁচে থাকবে মল্লিকা

শিলিগুড়ির মল্লিকার অঙ্গ প্রতিস্থাপিত হলো ৩ জনের মধ্যে, তাদের মধ্যে বেঁচে থাকবে মল্লিকা

শহরে আবারও একটি অঙ্গ প্রতিস্থাপনের নজির। শিলিগুড়ির ১৫ বছরের যুবতী মল্লিকা মজুমদারের ব্রেন ডেথ হয়। মেয়ের মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছিল মজুমদার পরিবার। কিন্তু পরিবার সিদ্ধান্ত নেয় মেয়ের অঙ্গদানের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে তাদের মেয়েকে বাঁচিয়ে রাখবেন তাঁরা।

পরিবার জানিয়েছে, শিলিগুড়ির বাসিন্দা মল্লিকার কানের সংক্রমণ হয়। তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিল সে। হঠাৎ একদিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে স্কুলে পড়ে যায়। মাথায় রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছিল বলে সেখানকার চিকিৎসকরা জানান। কিছুদিন আগে এসএসকেএমের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয় মল্লিকাকে। চিকিৎসায় সাড়া দেয়নি সে। সেখান থেকে ধীরে ধীরে তার মস্তিষ্কে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। মস্তিষ্কের কোষগুলো অকেজো হয়ে পড়ায় কোমায় চলে যায় মল্লিকা। ব্রেন ডেথ ঘোষণার পর তার পরিবারকে চিকিৎসকেরা অঙ্গদানের গুরুত্ব বোঝাতে তারা শুক্রবার রাজি হয়ে যান মল্লিকার অঙ্গদান করার জন্য।

তত্পরতার সঙ্গে অঙ্গ গ্রহীতার খোঁজ শুরু করে এসএসকেএম কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। তখনই দু’জনের খোঁজ মেলে। মল্লিকার দু’টি কিডনি পেল খড়দহের বাসিন্দা মৌমিতা চক্রবর্তী এবং সোদপুরের বাসিন্দা সঞ্জীব দাস। এসএসকেএম হাসপাতালে দুই গ্রহীতার অস্ত্রোপচার হয়েছে। 

অন্য দিকে, শুক্রবার গভীর রাতে অজয় রমাকান্ত নায়ক নামে এক রোগীকে অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় চেন্নাই থেকে। গ্রিন করিডর তৈরি করে মাত্র ১৩ মিনিটে এসএসকেএম থেকেওই বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় মল্লিকার যকৃত্। শনিবার অস্ত্র্রোপচার হয়। এসএসকেএম সূত্রে খবর, কিডনি প্রতিস্থাপন সফল হয়েছে। তবে রোগীদের ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। অন্য দিকে, রমাকান্তের যকৃত্ প্রতিস্থাপনও সফল হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, মল্লিকার ত্বকও সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।