চিকিত্সকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা! রয়েছে নম্বর ব্যবস্থা, তার ভিত্তিতে পুরস্কারও

চিকিত্সকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা! রয়েছে নম্বর ব্যবস্থা, তার ভিত্তিতে পুরস্কারও

চিকিত্সকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা। কি নিয়ে প্রতিযোগিতা? শুনলে অবাক হবেন, সেটা হলো অস্ত্রোপচার! এই প্রতিযোগীতায় থাকছেন পুরস্কারও! ফাঁকি দিলে থাকছে জবাবদিহির দায় ও দাওয়াই। বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে? তাহলে পড়ুন...
রাজ্যের চিকিত্সা ব্যবস্থার হাল ফেরাতে একটি প্রতিযোগিতা হবে চিকিত্সকদের মধ্যে। এই ব্যবস্থার প্রথম ধাপে মেডিক্যাল কলেজের নীচের স্তরের সব সরকারি হাসপাতালের সার্জন ও গাইনোকলজিস্ট বা স্ত্রীরোগ-বিশেষজ্ঞদের কাজের খতিয়ান নিল এবং তারপর ‘পারফরম্যান্স’ মাপল সরকার। দেওয়া হচ্ছে র‌্যাঙ্ক। তার ভিত্তিতেই পুরস্কার।
প্রয়াত চিকিৎসক সুব্রত মৈত্র যখন সরকারি হাসপাতালের কাজকর্মের উপরে নজরদারি চালানোর জন্য গড়া স্বাস্থ্য সংক্রান্ত মাল্টিডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন, তখনই চিকিৎসকদের কাজের নিরিখে ‘র‌্যাঙ্ক’ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। ভাল কাজের জন্য পুরস্কার এবং ফাঁকি মারার জন্য তিরস্কারের উপরেও জোর দেন তিনি। বস্তুত তাঁর প্রস্তাবের ভিত্তিতেই গত জানুয়ারিতে সার্জন এবং স্ত্রীরোগ-বিশেষজ্ঞদের মাসিক পারফরম্যান্সের তথ্য চেয়ে পাঠানো শুরু হয় হাসপাতালের কাছে।
এই ধরনের পরীক্ষা-সমীক্ষা বা খতিয়ান নেওয়া হয় অনেক সময়েই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরে সব চাপাও পড়ে যায়। তাই সংশ্লিষ্ট মহল ধরে নিয়েছিল, এ ক্ষেত্রে ঘটা করে তথ্য চেয়ে পাঠানো হলেও আখেরে তেমনটাই হবে। কিন্তু ন’মাস পরে সকলকে কার্যত চমকে দিয়ে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সার্জারি বা অস্ত্রোপচারের সংখ্যার ভিত্তিতে চিকিৎসকদের কে কোন স্থান পেয়েছেন, তার দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য দফতর। 
তাতে দেখা যাচ্ছে, স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত মেজর বা গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচারের সংখ্যার নিরিখে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়— তিনটি স্থানই দখল করেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা হাসপাতাল এমআর বাঙুরের তিন গাইনোকলজিস্ট। আবার স্ত্রীরোগ ছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সার্জারির সংখ্যার নিরিখে প্রথম তিনটি স্থানে রয়েছেন পুরুলিয়া জেলা হাসপাতালের তিন সার্জন। তালিকায় দেখা যাচ্ছে, কোনও হাসপাতালে এক জন সার্জন হয়তো মাসে বড় ধরনের ৩৫০টি অস্ত্রোপচার করেছেন। আবার অনেক হাসপাতালে কোনও কোনও চিকিৎসক হয়তো মেরেকেটে অস্ত্রোপচার করতে পেরেছেন ২২টি!
এই প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিকর্তা বিশ্বরঞ্জন শতপথী বলেন, ' কে কতটা কাজ করছেন আর কে ফাঁকি দিচ্ছেন, সেটা এই তালিকা থেকে বোঝা যাবে। তার ভিত্তিতে ভালদের পুরস্কৃত করা হবে আর জবাবদিহি করতে হবে ফাঁকিবাজদের '। তিনি জানান, শুধু সার্জন নয়, অন্যান্য বিষয়ের চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও এই ধরনের পারফরম্যান্স অডিট হবে।