ডেঙ্গি সম্পর্কে হু-র পরামর্শ আদৌ কি মানছে রাজ্য, উঠছে প্রশ্ন

ডেঙ্গি সম্পর্কে হু-র পরামর্শ আদৌ কি মানছে রাজ্য, উঠছে প্রশ্ন

ডেঙ্গি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার ব্যর্থ। নেওয়া হচ্ছে না যথাযথ ব্যবস্থা। পরিস্থিতি অনেকটাই জটিল হয়ে পড়লেও কেন্দ্রের সাহায্য নেয়নি রাজ্য। রাজ্যে কেন্দ্রের প্রথম শ্রেণির গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কলেরা অ্যান্ড এন্টেরিক ডিজিজেস বা নাইসেড রয়েছে। কিন্তু ডেঙ্গি মোকাবিলায় তাদের সাহায্য নেয়নি রাজ্য। এমনকী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র সুপারিশও তারা মানছে কি না, সেই বিষয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।
হু সুপারিশ করেছে,  ডেঙ্গির উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও যে-সব রোগীর রক্তপরীক্ষায় ওই রোগের জীবাণু মিলছে না, তাঁদের উপরেই কড়া নজর রাখতে হবে। ডেঙ্গিরোগীর তালিকায় ওই সব রোগীর নামও গুরুত্ব দিয়ে নথিভুক্ত করে তাঁদের রক্তের নমুনা ফের পরীক্ষার সুপারিশও করেছে হু। কিন্তু রাজ্য সরকার এই সুপারিশ মানছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।
রাজ্য ডেঙ্গির তথ্য চেপে দিচ্ছে বলে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে। ৪ অক্টোবরের পরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকে ডেঙ্গি সংক্রান্ত কোনও তথ্যই পেশ করেনি পশ্চিমবঙ্গ। ৪ অক্টোবর সেখানে যে-রিপোর্ট জমা পড়েছে, তাতে ডেঙ্গির উপসর্গ থাকা ‘অজানা জ্বর’-এ আক্রান্ত ও মৃতদের কোনও তলিকাই দেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্য ভবন ওই তালিকা আদৌ তৈরিতে করেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এক কর্তা বলেন, ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে হু-র নির্দেশিকা (গাইডলাইন্স ফর ডায়াগনসিস, ট্রিটমেন্ট, প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল অব ডেঙ্গি, ২০০৯)-য় বলা হয়েছে, কোথায় কোথায় এই রোগ ছড়াচ্ছে, কোথায় তাদের চিকিৎসা হয়েছে, কী ভাবে রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং কোন কোন ক্ষেত্রে রোগীকে বাঁচানো যায়নি— সেই সব তথ্যের সবিস্তার তালিকা থাকা জরুরি। বিশেষ করে ডেঙ্গিপ্রবণ এলাকা থেকে সংগৃহীত যে-সব রক্তের নমুনায় রোগজীবাণু ধরা পড়েনি, সেগুলির একাধিক বার পরীক্ষা করা দরকার। রক্তের নমুনা বারবার পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয়ের উপরে জোর দিয়েছে হু।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সঙ্গে যুক্ত এক এপিডেমিওলজিস্ট বা মহামারিবিদের মন্তব্য, রক্তপরীক্ষায় রোগের জীবাণু মিলল কি না, তার উপরে নির্ভর না-করে ডেঙ্গিপ্রবণ এলাকায় উপসর্গ দেখেই রোগীদের চিকিৎসা শুরু করে দেওয়া উচিত। 

হু- বক্তব্য :

* রক্তপরীক্ষায় রোগ নির্ণয়ের আগেই উপসর্গ দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে।

* ডেঙ্গিপ্রবণ এলাকায় যথাযথ তথ্য সংগ্রহ।

* তথ্য সংগ্রহের কাজে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহায্য গ্রহণ।

* প্রতিটি ডেঙ্গিরোগীর তথ্য আলাদা ভাবে সংরক্ষণ।

* নমুনায় রোগ ধরা না-পড়লে সেগুলির পুনঃপরীক্ষা।

* রোগ ধরা না-পড়লেও ডেঙ্গির উপসর্গ থাকলেই নামের নথিভুক্তি।

* এই ধরনের রোগীর উপরে কড়া নজরদারি।

* পরে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে সেগুলো কাজে লাগবে।

হু-র পরামর্শ, কোনও সংক্রমণের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে কাজে লাগাতে পারে প্রশাসন। কিন্তু এ রাজ্যে বেসরকারি হাসপাতালের তথ্যই তালিকাভুক্ত করছে না স্বাস্থ্য দফতর। ফলে ডেঙ্গির যথাযথ তথ্য সামনে আসছে না বলে অভিযোগ সরকারি চিকিৎসকদের একটি অংশের।