উত্তর ২৪ পরগনার জেলা হাসপাতালে স্রোতের মতো রোগী আসছেন, ডেঙ্গিতে মৃতের সংখ্যা এক মাসে একশো ছুঁয়েছে

উত্তর ২৪ পরগনার জেলা হাসপাতালে স্রোতের মতো রোগী আসছেন, ডেঙ্গিতে মৃতের সংখ্যা এক মাসে একশো ছুঁয়েছে

রোগীর সংখ্যা এতটাই বেশি যে এক শয্যায় ঠাসাঠাসি করে দু’জন। এমনকি শয্যার নীচে, বারান্দাতেও শুয়ে বহু রোগী। আর হাসপাতালের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি রাখা থাকে যে ঘরে, সেখানেও ভিড়। এমনটাই ছবি উত্তর ২৪ পরগনার জেলা হাসপাতাল বারাসতে। অজানা জ্বর ও ডেঙ্গির
প্রকোপ এতটাই বেড়েছে যে হাসপাতালে জায়গা ডিপিয়া যাচ্ছে না রোগীদের।  কি বলবে প্রশাসন?
রোগী সুস্থ হয়ে গেছে বলে ছুটি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সেই রোগী আবার অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছেন। এমন ঘটনাও ঘটছে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়নি? আর যদি পুরোপুরি সুস্থ না হয়ে থাকে তাহলে ছুটি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে কেন?
সোমবার রাতে মারা যান চৌরাশির ঢালিপাড়ার নাসিরাবিবি। তিন দিন বারাসত হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। রবিবার ছেড়ে দেওয়া হয়। সোমবার মারা যান তিনি। স্বামী নাসির হোসেন
মোল্লা বলেন, ‘‘ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। আর কোথায় ভরসা করব বলুন? শুধুমাত্র জ্বরে কত মানুষ মারা যাচ্ছে। কারও কোনও বিকার নেই! ’’
উত্তর ২৪ পরগনায় জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক লক্ষ। মৃতের সংখ্যা এক মাসেই প্রায় একশো ছুঁয়েছে। গতকাল মারা গিয়েছেন সাত জন। এ নিয়ে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে সরব হয়েছিলেন বারাসত হাসপাতালেরই চিকিৎসক অরুণাচল দত্ত চৌধুরী। বন্যার মতো রোগী আসছে আর তাদের সুচিকিৎসা হচ্ছে না বলে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন তিনি। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে তিনি মন্তব্য করেন, ‘‘ এমন ভয়ানক অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল, হয়নি। পরিস্থিতি সামলাতে রোগীদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মৃত্যুর কারণ ডেঙ্গি হলেও তা না লেখার জন্য চাপ রয়েছে। ’’
পরিকাঠামোর যে অভাব রয়েছে, তা মানছেন সবাই। বারাসত ছাড়াও দেগঙ্গা, হাবরা, গাইঘাটা ও বসিরহাট থেকে স্রোতের মতো রোগী আসছেন। হাজারখানেক জ্বরের রোগী দেখছেন মাত্র ৩ জন চিকিৎসক।  
এই সম্পর্কে হাসপাতাল সুপার সুব্রত মণ্ডল বলেন, প্রচুর রোগী আসছেন। আমরাও সাধ্যমতো চিকিৎসা করে যাচ্ছি। কেউ মারা গেলে রোগীর পরিজনের কষ্ট, ক্ষোভ তো হবেই। কিন্তু এমন ভয়ানক পরিস্থিতিতে আমাদের অবস্থা দেখেও রোগী ও পরিজনেরা আমাদের পাশে রয়েছেন। এটাই বড় কথা।