ডেঙ্গি এবং জ্বরে সোমবারে মৃত আরও তিন

ডেঙ্গি এবং জ্বরে সোমবারে মৃত আরও তিন

ডেঙ্গি ও জ্বরে মারা গেলেন আরও তিনজন। নিউ টাউনের প্রমোদগড়ের ৮ নম্বর গলির বাসিন্দা মাধুরী বৈদ্যর ডেঙ্গিতে মৃত্যু হয়েছিল গত বুধবার। তারপর এক সপ্তাহও কাটলো না। সোমবার ডেঙ্গিতে মৃত্যু হল ১ নম্বর গলির বাসিন্দা বছর উনিশ বছরের রিয়া সরকারের।
রিয়ার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নভেম্বরের ৯ তারিখ জ্বর আসে তাঁর। রিয়ার মামা বলেন, ১০ তারিখেই রিয়াকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই। রক্ত পরীক্ষায় এনএস-১ পজিটিভ আসে। তিনি জানান, রিয়াকে আই ডি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক আউটডোরে দেখে কিছু ওষুধপত্র দিয়ে ছেড়ে দেন। বাড়ি ফেরার পরে শনিবার জ্বর ছেড়ে যায়। কিন্তু রবিবার সন্ধ্যা থেকে ফের জ্বর আসে। রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ রিয়ার হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায়। পেটে অসহ্য ব্যথার সঙ্গে শুরু হয় ডায়রিয়া। সোমবার সকালে তাকে ফের আই ডি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিজনেদের অভিযোগ, হাসপাতালে রিয়াকে বেশ কিছুক্ষণ ফেলে রাখায় ওর অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। রিয়ার মামার অভিযোগ, চিকিৎসকেরা রিয়াকে ডায়রিয়ার ওয়ার্ডে ঢুকিয়ে ডায়রিয়ার চিকিৎসা শুরু করেন। সাড়ে বারোটা নাগাদ মৃত্যু হয় রিয়ার।
মৃতার পরিবারের অভিযোগ, ডেঙ্গির উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকেরা ডেঙ্গি লিখতে রাজি হচ্ছিলেন না। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে অনেক টালবাহানার পরে ডেথ সার্টিফিকেটে এনএস-১ লেখা হয়।
এ দিনই রাজারহাটের কাদিহাটি এলাকায় ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় সুমন দে নামে বছর পঁয়ত্রিশের এক যুবকের। সুমনের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৬ অক্টোবর তাঁর জ্বর আসে। তার পরের দিন ২৭ তারিখ স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি রক্ত পরীক্ষা করতে বলেন। ২৮ তারিখ রক্ত পরীক্ষা করা হলে তাঁর এন এস ওয়ান পজিটিভ আসে। এর পরে ২৯ তারিখ সুমনকে বেলেঘাটা আই ডি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর ডায়রিয়া হয়। আই ডি হাসপাতাল ডায়রিয়ার চিকিৎসা করে সুমনকে ৩০ তারিখ ছেড়ে দেয়। কিন্তু পরিজনেদের অভিযোগ, বাড়ি ফিরতেই সুমনের ফের জ্বর আসায় তাঁকে আবার নিয়ে যাওয়া হয় বাঙ্গুর হাসপাতালে। সেখানে কয়েক ঘণ্টা রাখার পরে সুমনকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন চিকিৎসকেরা। সুমনকে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তার পর থেকে সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন সুমন। সুমনের দিদি বলেন, তিন দিন আগে ওকে আইসিইউ থেকে সাধারণ বেডে দেওয়া হয়। ফের ভাইয়ের জ্বর আসে। ১০৪ ডিগ্রি জ্বরে প্রায় বেহুঁশের মতো হয়ে যায় ভাই। গত কাল সন্ধ্যা থেকে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। রাত আটটা নাগাদ ভাইয়ের মৃত্যু হয়। সুমনের ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসাবে হাসপাতাল ডেঙ্গি লিখেছে।
গতকাল সোমবার আরজিকর হাসপাতালে মৃত্যু হয় দমদম রোডের বাসিন্দা জ্বরের রোগী ৪৫ বছরের কিরণ জয়সোয়ারার।