ছিয়াত্তরে পা অমিতাভ বচ্চনের

ছিয়াত্তরে পা অমিতাভ বচ্চনের

অমিতাভ বচ্চনের ৭৬-তম জন্মদিনে তাঁকে শুধু শুভেচ্ছাই নয়, স্যালুট।অমিতাভের সমকালীন বেশিরভাগ অভিনেতারাই তাল মেলাতে পারেননি পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে। সরে গেছেন অভিনয় জগৎ থেকে। কিন্তু, তিনি তাঁর অনুরাগীদের কাছে সবসময় প্রাসঙ্গিক থাকতে চেয়েছেন। সময়ের সঙ্গে নিজেকে ভেঙেছেন, আবার গড়েছেন। তাঁর শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন, কাজের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা,আজও প্রেরণা দেয় সবাইকে। ১২ টি পর পর ফ্লপ ফিল্ম যেকোনও নবাগত অভিনেতার পক্ষে কেরিয়ারের শুরুতেই ফ্লপ ফিল্ম রীতিমত ঙয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করে। বলিউড হাদশা অমিতাভের জীবনের প্রথম ১২ টি ছবিই হিট হয়নি। তবুও মুষড়ে পড়েননি বিগ বি। লড়াই চালিয়েছেন সমান তালে। শেষে সৌভাগ্য কড়া নাড়ে তাঁর দরজায়। ' জঞ্জির' ছবির হাত ধরে আসে তাঁর কেরিয়ারে বলিউডে প্রথম হিট, সাফল্যের স্বাদ পান অমিতাভ।

একশ বছরেরও বেশী বয়সী ভারতীয় সিনেমা কম নায়ক দেখেনি। দেখেছে অশোক কুমারের মতো সুপারহিরোকে। একসময়ের দেব আনন্দের ক্যারিশমা মুগ্ধ করেছে আসমুদ্র হিমাচল। রাজেশ খান্নার স্টারডমের আঁচে পুড়েছে দর্শক। দিলীপ কুমারের আলটিমেট মেথড অ্যাকটিংয়ে বুঁদ হয়েছে। কিন্তু অমিতাভ যেন এই সমস্ত অভিনেতাদের মিশেল। অনেকটা জলের মতো যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন, সেই পাত্রের আকারই ধারণ করবেন।

অমিতাভের বিজ়নেস ভেঞ্চার ব্যর্থ হয় নব্বইয়ের দশকে। প্রায় ৯০ কোটির ধাক্কা খায় কম্পানি। তিনি ফেরৎ দেন সমস্ত টাকা, আস্তে আস্তে। তবে আজও ভুলতে পারেন না সেই দিনগুলোর কথা। বাড়িতে পাওনাদারদের লাইন, বাজে ব্যবহার, ভয় দেখানো, কিছুই ভোলেননি তিনি। হয়তো ভোলা যায় না। 

টেলিভিশনেও এক নতুন যুগ তৈরি করেন অমিতাভ। টিভির প্রোগ্রামের মান নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তিনি নিয়ে এলেন 'কৌন বানেগা ক্রোড়পতি'। আর এই শোয়ের জনপ্রিয়তা প্রশ্নাতীত। 
 

শেরউড কলেজে পড়া এক তরুণের মাথায় হঠাৎই ভর করল অভিনেতা হওয়ার ভূত। কুড়ি বছর বয়সে কলকাতায় পা রাখা। অল ইন্ডিয়া রেডিওর অডিশনে ব্যর্থ। কারণ, হিসেবে বলা হল, তাঁর ভয়েস টোন নাকি শ্রোতারা পছন্দ করবেন না। কে জানতো, একদিন ওই ব্যারিটোন ভয়েসেই কেঁপে উঠবে আসমুদ্র হিমাচল। একটা সাদামাটা ছিমছাম চাকরি ওই ছ ফুট লম্বা স্বপ্ন দেখা যুবকের সঙ্গে কিছুতেই যেন খাপ খাচ্ছিল না।