সরকারি নাট্য কর্মশালার পরিচালের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের রাত্রে ঘরে আসার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ

সরকারি নাট্য কর্মশালার পরিচালের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের রাত্রে ঘরে আসার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ

কথাতেই আছে রক্ষকই ভক্ষক,সত্যিই সেই কথার প্রমান দিল একটি সরাকরি নাট্য শালার পরিচালক,ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠল বর্ধমান সরকারি নাট্যশালার পরিচালকের দিকে,অভিযুক্ত পরিচালকের নাম প্রেমাংশু  রায়,,যদিও এখনও আটক করা হয়নি তাঁকে

মিনার্ভা নাট্য সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের অধীনস্থ রেপারটারির উদ্যোগে, ৮ তারিখ থেকে বর্ধমানের রবীন্দ্র ভবনে একটি সরকারি নাট্য কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সেই সরকারি নাট্য কর্মশালাতেই প্রশিক্ষণ নিতে আসেন পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমের একুশজন নাট্যকর্মী। তাঁদের মধ্যে সাতজন মেয়ে। সারাদিন প্রশিক্ষণের পর রাতে সকলের থাকার ব্যবস্থা হয় কাছেই বর্ধমান ভবনে। এই বর্ধমান ভবনেই প্রশিক্ষকের অন্য এক রূপ দেখে হতভম্ভ ছাত্রছাত্রীরা।

ফেসবুক লাইভে ছাত্রছাত্রীরা অভিযোগ আনেন, প্রেমাংশুবাবু মদ্যপ অবস্থায় এক মহিলা অভিনেত্রীকে ডেকে অশোভন কথাবার্তা থেকে কুপ্রস্তাব দেন। কর্মশালায় প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে আলাদা আলাদা করে ক্লাস নেওয়ার সময় বেশকিছুজনকে কুপ্রস্তাব দেন প্রেমাংশু রায়। বলেন, প্রস্তাবে রাজি হলে তাঁদেরকে সিনেমা সহ অন্য জায়গায় সুযোগ দেওয়া হবে। এমনকী, এই প্রস্তাবের কথা ফাঁস করে দিলে ক্যারিয়ার নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দেন পরিচালক। আরও অভিযোগ ছাত্রছাত্রীদের। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে কিছু না বললেও গতকাল ফের একই ঘটনা ঘটে। এরপর আর চুপ থাকতে পারেননি ছাত্রছাত্রীরা। ফেসবুক লাইভে এসে গোটা ঘটনা খুলে বলেন তাঁরা।

।নিজের সম্পর্কে ওঠা কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রেমাংশু রায়। এদিকে এই ঘটনার পর প্রেমাংশু রায়কে কর্মশালার প্রশিক্ষকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের তরফে সব জেলায় নির্দেশ পাঠিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে মিনার্ভার সঙ্গে প্রেমাংশু রায়ের আর কোনও যোগ নেই

 

বিষয়টি জানাজানি হতেই নবান্নের নির্দেশে তদন্তে নেমেছে তথ্য সংস্কৃতি দফতর। বর্ধমান ভবনে গিয়ে ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ। এদিন ঘটনাস্থলে যান পূর্ব বর্ধমানের তথ্য সংস্কৃতি আধিকারিক কুশল চক্রবর্তী। প্রশিক্ষককে নিয়ে অভিযোগ, তাই তাঁকে প্রশিক্ষণের যাবতীয় কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

হেমন্ত চক্রবর্তী নামে কর্মশালায় অংশ নেওয়া এক ছাত্র বলেন, “আমরা ফেসবুকে যা বলেছি, সেটাই আমাদের অভিযোগ। গত কদিন ধরে আমরা প্রেমাংশু রায়ের কাছ থেকে যে আচার আচরণ পেয়ে আসছিলাম, তাতে আমরা সবাই খুবই কষ্টে ছিলাম। একটা সময় পরে আমরা প্রতিবাদ করতে বাধ্য হয়েছিলাম। তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই ভিডিও তুলে নেওয়া হয়। তারা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়।”