গেস্টহাউসেই  দেহ ব্যবসা, ধৃত বারো

গেস্টহাউসেই  দেহ ব্যবসা, ধৃত বারো

পুরসভার গেস্টহাউসেই রমরমিয়ে চলছিল দেহ ব্যবসার আসর। সিআইডি তল্লাশি চালাতেই 'হাতেনাতে' ধরা পড়ল ৮ জন মহিলা ও ৪ জন পুরুষ। একইসঙ্গে গেস্টহাউস থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বহু আপত্তিকর ডিভিডি, কন্ডোম, নগদ ১০ হাজার ও ১০টি মোবাইল। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে হুগলীর কোন্নগরে।

যখন CID-র টিম হানা দিল বিশ্রামিকা গেস্ট-হাউজ়ে। গোয়েন্দাদের কাছে খবর ছিল, গেস্ট-হাউজ়ের আড়ালে রমরমিয়ে চলছে দেহব্যবসার কারবার। হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় ম্যানেজার সহ চারজনকে। পরে জানা যায়, ওই গেস্ট-হাউজ়ের নেপথ্যে আছেন তৃণমূলের স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতা। আর তা নিয়েই চর্চা চলছে কোন্নগরে।

 

বিশ্রামিকা পৌরসভার গেস্ট-হাউজ়। লিজ়ে চলে। লিজ় নিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা শ্যামল মণ্ডল। বেশ প্রভাবশালী। স্থানীয়রা বলেন, 'শ্যামলদা ছোটো-বড় কাউকেই ছাড়েন না। মানুষকে সাহায্যও করেন। তবে, রাগটা একটু বেশি। কেউ তাঁর কাজে বাগড়া দিলে তো হয়েই গেল।' লোকমুখে শোনা যায়, শ্যামলবাবু পৌরসভার চেয়ারম্যান বাপ্পাদিত্য চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ। আর স্থানীয় কাউন্সিলর স্বপনকুমার দাসের বিরোধী। বাপ্পাদিত্য অবশ্য বলছেন, 'শ্যামল মণ্ডলকে টাকার বিনিময়ে লিজ় দেওয়া হয়েছিল। এর বাইরে আমার কিছু জানার কথা নয়। জানতামও না।

স্থানীয়দের অভিযোগ ঘণ্টায় ৪০০ টাকা দিলেই পাওয়া যেত ঘর। বিষয়টি পুরসভার চেয়ারম্যানকে জানিয়েও কোনও ফল হয়নি বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। দেহ ব্যবসা চালাতে দালাল ছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়াকেও ব্যবহার করা হত বলে অভিযোগ। সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করেই মহিলাদের ছবি খরিদ্দারের কাছে পাঠানো হত।

এই ঘটনায় কড়া ব্যবস্থা নিতে পুলিসকে নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল। যদিও স্থানীয় তৃনমূল কাউন্সিলর ও পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন দাসের দাবি, পুরসভার ভিতরে অনেকই অনৈতিক কাজ চলছে। কিন্তু কিছু বলতে গেলেই মারধর করা হয়। ফলে ভয়ে কেউ মুখ খোলে না।