এয়ার ইন্ডিয়া কে কিনবে? মালিক খুঁজতে সমস্যায় কেন্দ্র

এয়ার ইন্ডিয়া কে কিনবে? মালিক খুঁজতে সমস্যায় কেন্দ্র

এয়ার ইন্ডিয়া বিক্রি করার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছিল কেন্দ্র। কারণ বাজারে ৬০ হাজার কোটি টাকার দেনা হয়ে রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার। তাই কেন্দ্র আর এর দায় নিতে নারাজ। কিন্তু এয়ার ইন্ডিয়া বেচতে গিয়ে সমস্যায় মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের একটা বড় অংশের অবশ্য দাবি, এয়ার ইন্ডিয়া-র কাছে বোয়িং ড্রিমলাইনার থেকে শুরু করে বিপুল সংখ্যায় নতুন বিমান রয়েছে। বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে উড়ান, বিমান ল্যান্ডিং এবং গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে নিজস্ব বিমান রাখার অধিকার রয়েছে। ফলে ওই ৬০ হাজার কোটি টাকার দেনার ভার কিছুটা কমানোর ব্যবস্থা করলে এয়ার ইন্ডিয়াকে লুফে নেওয়ার লোকের অভাব হবে না।
জানা গিয়েছে, ২০১৮-র ১ এপ্রিল থেকে এয়ার ইন্ডিয়া চালাতে রাজি নয় সরকার। কী ভাবে সংস্থাটিকে বেচা হবে, তা নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনার জন্য খসড়া ক্যাবিনেট নোট তৈরি। বিমান মন্ত্রক ও অর্থ মন্ত্রকের বিলগ্নিকরণ দফতরের তৈরি ওই নোট এখন বিভিন্ন মন্ত্রকে মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে।
বিলগ্নিকরণ নয়। নীতি আয়োগের সুপারিশ, পুরোপুরিই বেচে দেওয়া হোক এয়ার ইন্ডিয়া। যুক্তি, ইতিমধ্যেই লোকসানে চলা এয়ার ইন্ডিয়ার হাল ফেরাতে ৫০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। আর নয়। অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিরও প্রকাশ্যেই বলেছেন, সরকার কেন শিক্ষা-স্বাস্থ্যে ব্যয় না করে বিমান চালানোর পিছনে খরচ করবে? 
সরকারের একটি সূত্রের খবর, দেশীয় কোনও সংস্থা একা এয়ার ইন্ডিয়া কিনতে আগ্রহী না হলেও, বিদেশের কোনও সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়েও এয়ার ইন্ডিয়া কিনতে পারে। বিমান ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই ৪৯ শতাংশ বিদেশি লগ্নির ছাড়পত্র দেওয়া রয়েছে। বিমান সংস্থাগুলির আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘স্টার অ্যালায়েন্স’-এর সদস্য এয়ার ইন্ডিয়া। কোনও যাত্রী এক টিকিটেই এই সব সংস্থার বিমানে যাতায়াত করতে পারেন। হিথরোর মতো বিমানবন্দরেও এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান রাখার নিজস্ব জায়গা রয়েছে। ফলে কোনও বিদেশি সংস্থাও এয়ার ইন্ডিয়ার মালিকানা কিনতে আগ্রহ দেখাতে পারে। সরকারি সূত্রের খবর, জুলাই মাসেই মন্ত্রিসভার সবুজ সঙ্কেত নিয়ে মহারাজা-র নতুন মালিক খোঁজার কাজ শুরু করে দেওয়া হবে।