অনাদায়ী ঋণের নয়া রেকর্ড গড়ল কেন্দ্র! বাজারে পড়ে থাকা অনাদায়ী ঋণের পরিমান ৯.৫৩ লক্ষ কোটি টাকা

অনাদায়ী ঋণের নয়া রেকর্ড গড়ল কেন্দ্র! বাজারে পড়ে থাকা অনাদায়ী ঋণের পরিমান ৯.৫৩ লক্ষ কোটি টাকা

অনাদায়ী ঋণের নতুন রেকর্ড গড়ল কেন্দ্র! জানা গিয়েছে, চলতি বছরে জুন মাসের শেষে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ৯.৫৩ লক্ষ কোটি টাকা। টাকার অঙ্কটা নেহাত কম নয়। এই পরিসংখ্যান থেকে এটা স্পষ্ট যে, অনাদায়ী ঋণ আদায় বা নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ব্যর্থ। তথ্য জানার অধিকার আইনে করা এক প্রশ্নের উত্তরে এই তথ্য জানা গিয়েছে। গত বছর নোট বাতিলের পর থেকেই অর্থনীতি নুইয়ে পড়েছে। জিডিপি বৃদ্ধির হার কমেছে অনেকটাই। শিল্পেও তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বললেই চলে। সেভাবে নতুন কোনও শিল্প গড়ে ওঠেনি। ফলে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু নোট বাতিলের খারাপ ফলাফল মানুষ এখনও টের পাচ্ছে। কাজ হারিয়েছেন বহু মানুষ। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের সমালোচনায় সরব বিরোধীরা। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই পরিসংখ্যান একদিকে যেমন সরকারের বিড়ম্বনা বাড়াবে তেমনই বিরোধীদের জোগাবে সমালোচনার এক নতুন অস্ত্র।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, বিভিন্ন ব্যাঙ্কের অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বাজারে পড়ে থাকা এই বিপুল পরিমাণ টাকা কীভাবে আদায় হবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন ব্যাঙ্কগুলির কাছে। চলতি বছরে ৩০ জুন বা বছরের প্রথম ছয় মাসে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৪.৫ শতাংশ। এ দেশে বিভিন্ন সংস্থার মূলধনের প্রধান উৎসই হল ব্যাঙ্ক। ব্যাঙ্কগুলি প্রদত্ত ঋণের টাকা আদায় করতে না পেরে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। যার ফলে নতুন করে বিভিন্ন মাঝারি ও ক্ষুদ্র সংস্থা চেয়েও ঋণ পাচ্ছে না। ফলে তারা নতুন ব্যবসা শুরু বা পুরনো ব্যবসার সম্প্রসারণ করতে পারছে না। ফলশ্রুতিতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান মার খাচ্ছে। কমছে বৃদ্ধির হার। 
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এর দাবি, এই মুহূর্তে ব্যাঙ্কগুলির যে টাকা অনাদায়ী পড়ে রয়েছে সেই টাকা উদ্ধার হলে কমপক্ষে ৮টি রাজ্যের গরিব কৃষকদের ঋণ মকুব করা সম্ভব হত। এখানেই শেষ নয়, ৮ রাজ্যের গরিব কৃষকদের ঋণ মকুব করার পরেও ব্যাঙ্কগুলির হাতে ৩২ শতাংশ টাকা উদ্বৃত্ত হত। পরিসংখ্যান বলছে, এই মুহূর্তে স্টেট ব্যাঙ্কের সবচেয়ে বেশি ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি অনাদায়ী অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যা মোট অনাদায়ী ঋণের ২৭ শতাংশ। অনাদায়ী ঋণের পরিমাণের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক। পিএনবি-র অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই দুই ব্যাঙ্কের মোট অনাদায়ী ঋণের প্রায় ৪০ শতাংশ।