দ্বিতীয় হুগলি সেতু পার হতে গেলে দিতে হতে পারে দ্বিগুণ টোল ট্যাক্স

দ্বিতীয় হুগলি সেতু পার হতে গেলে দিতে হতে পারে দ্বিগুণ টোল ট্যাক্স

এবার থেকে হয়তো দ্বিগুন টোল ট্যাক্স দিতে হতে পারে দ্বিতীয় হুগলি সেতু পার হতে গেলে। কলকা্তা ও হাওড়ার সংযোগকারী এই সেতুটির টোল ট্যাক্স বাড়ানোর জন্য রাজ্য পরিবহণ দপ্তরকে প্রস্তাব পাঠিয়েছে ‘হুগলি রিভার ব্রিজ কর্পোরেশন’ (এইচআরবিসি)। অর্থ দপ্তর অনুমোদন করলেই প্রস্তাব কার্যকর হবে। সেক্ষেত্রে টোল ট্যাক্স দ্বিগুন।
এখন বেসরকারি গাড়ি, ট্যাক্সি দ্বিতীয় হুগলি সেতু দিয়ে যেতে ১০ টাকা টোল ট্যাক্স দিতে হয়। বাসের জন্য ৫০ টাকা,  মিনি বাসের জন্য ২৫ টাকা,  স্কুটার—বাইক জন্য ৫ টাকা, লরির জন্য ৮০ টাকা ও ট্রেলার নিয়ে যেতে ১১০ টাকা টোল ট্যাক্স নেওয়া হয়। নয়া প্রস্তাব কার্যকর হলে, এই টোল ট্যাক্সের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। 
নবান্ন সূত্রে খবর,  দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে শেষবার টোল ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছিল ২০১০ সালে। গত আট বছরে গাড়ি চাপ বাড়লেও, দ্বিতীয় হুগলি সেতু ব্যবহারের খরচ একই থেকে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দপ্তর মহাকরণ থেকে নবান্নে স্থানান্তরিত হওয়ার পরই দ্বিতীয় হুগলি সেতুর উপর গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। আর তার সাথে বেড়েছে রক্ষণাবেক্ষণের খরচও। তাই টোল ট্যাক্স যদি বাড়ানো হয়, তাহলে রাজ্যের আয় বাড়বে। বাড়তি খরচের কারণে দ্বিতীয় হুগলি সেতু এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাও বাড়বে। ফলে কমবে গাড়ির চাপও। জানা গিয়েছে, প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে ৮৫ হাজার গাড়ি চলাচল করতে পারে। কিন্তু, এখন গড়ে প্রায় ৯০ হাজার গাড়ি চলাচল করে।
নবান্নের এক আধিকারিক জানান,  জাপানি প্রযুক্তিতে তৈরি বিদ্যাসাগর সেতু ৮২৩ মিটার লম্বা এবং ৩৫ মিটার চওড়া। ১৯৯২ সালের ১০ অক্টোবর চালু হয় এই সেতু। রাজ্যের পরিবহণ দপ্তর টেন্ডার করে বেসরকারি সংস্থাকে টোল আদায় করার ছাড়পত্র দেয়। তখন থেকে একই পদ্ধতিতে টোল আদায় চলছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্য সরকার দ্বিতীয় হুগলি সেতু সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। দরপত্রও ডাকা হয়। রেলের সংস্থা রাইটসকে সমীক্ষার দায়িত্ব দিয়েছে রাজ্য সরকার। ওই সংস্থা কাজও শুরু করেছে।