শিশুদিবসে আধার পেলেন তেইশ বছরের যুবক

শিশুদিবসে আধার পেলেন তেইশ বছরের যুবক

আজ শিশুদিবসেই আধার পেলেন ২৩ বছরের সঞ্জীব মাহাতো। বয়স ২৩ কিন্তু চেহারা তিন বছরের বাচ্চার মত। ধন্দে পড়েছিল আধার কর্তৃপক্ষও। সেই কারণে বারবার বাতিল হয়েছে তার আধারের আবেদন। অবশেষে আজ সমস্যার সমাধান হলো। 
পুরুলিয়ার ১ নং ব্লকের গাড়াফুসড়ো গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জীব। জন্ম ১৯৯৩-এ। গোড়াতে একেবারে সুস্থ-স্বাভাবিক ছিলেন। পড়াশোনা-খেলাধুলো দুইই চলত সমান তালে। ক্লাস এইটের পর থেকে বিপত্তির সূত্রপাত। অস্টিপোরেসিসে আক্রান্ত হন সঞ্জীব। ক্রমশ তাঁর হাড় খইতে থাকে। চেহারাও খারাপ হয়। অবশেষে এখন প্রায় শিশুর চেহারা হয়েছে তাঁর। মুখ দেখলে আড়াই বা তিন বছরেরে বাচ্চা বলেই মনে হয়। উচ্চতাও মেরেকেট দুই ফুট। এই অবস্থাতেই আধারের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু চারবার সেই আবেদন বাতিল হয়েছে। যতবার ছবি ও বয়স মেলাতে চেয়েছে আধার কর্তৃপক্ষ, ততবারই গোল বেধেছে। প্রথমে নিজের গ্রামেরই স্থায়ী আধার কেন্দ্রে গিয়ে আধার করানোর চেষ্টা করেছিলেন। না হওয়ায় অন্যান্য নানা সেন্টারে গিয়ে চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনওভাবেই নিজের আধার কার্ড করাতে পারছিলেন না ওই যুবক।
এদিকে আধার না থাকার বিপদও আছে। শুধুই কি সচেতনতার জন্য আধার করাতে চাইছিলেন সঞ্জীব? ঠিক তা নয়। শারীরিক অবস্থার কারণে মাসে ছ’শো টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা পান তিনি। কিন্তু জনকল্যাণমূলক প্রায় প্রত্যেক পরিষেবার ক্ষেত্রেই আধার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ফলে আধারের কারণে ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও ছিল। তা সত্যিও হয়। গত পাঁচ মাস ধরে ভাতা পাচ্ছিলেন না তিনি। আধার কার্ড করা তাই একটা বড় তাগিদে পরিনত হয়। শেষমেশ পুরুলিয়া পুরসভার মধ্যে একটি আধার কেন্দ্রে গিয়ে সমাধানের হদিশ মেলে। তাদের পরামর্শেই রাঁচিতে আধারের আঞ্চলিক অফিসে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠি পেয়ে ইউডিএআই-এর আঞ্চলিক অফিসের ডেপুটি ডিরেক্টর রাজেশ কুমার প্রসাদ নিজে পুরো বিষয়টি দেখেন। সঞ্জীবের অবস্থা বুঝতে পারেন। তিনি জানান, পুরো বিষয়টি তিনি দিল্লিতে জানাচ্ছেন। সেইমতো ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ। এরপরই ঘটনার নিষ্পত্তি হয়। আধার হওয়ার ব্যবস্থা হয় সঞ্জীবের। আজ শিশুদিবসের দিনই তাঁর হাতে আধার তুলে দেওয়া হল।
বয়সে যুবক হলেও যেহেতু সঞ্জীব বাচ্চার মতোই, তাই এদিনটিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। পুরুলিয়া মিউনিসিপ্যালিটির উদ্যোগে জেলা পরিষদ প্রেক্ষাগৃহে এদিনের অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে আধার তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ডিরেক্টর রাজেশ কুমার প্রসাদ স্বয়ং। ছিলেন অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর সুনীল প্রসাদও। তিনি জানান, এটি বিরল ঘটনা। এই অবস্থাতেই যে উনি আধার কার্ড করাতে চেয়েছেন সেটাই আনন্দের। ওঁর সুস্থতা কামনা করি। 
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুরপ্রধানও। নিজের চেয়ারে তিনি সঞ্জীবকে বসতে দেন। তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় ৫০০০ টাকা।