রায়গঞ্জে প্রিসাইডিং অফিসারের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় এসডিও-কে মারধর করলেন ভোটকর্মীরা

রায়গঞ্জে প্রিসাইডিং অফিসারের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় এসডিও-কে মারধর করলেন ভোটকর্মীরা

উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে প্রিসাইডিং অফিসারের রহস্যমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। গতকাল মঙ্গলবার রেললাইনের ধার থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিন সকাল থেকেই শহরের ঘড়িমোড় অবরোধ করে রাখেন কয়েকশো ভোটকর্মী। পরিস্থিতি সামলাতে ঘটনাস্থলে রায়গঞ্জের এসডিও পৌঁছলে বুধবার দুপুরে তাঁকে ওই ভোটকর্মীরা হেনস্থা ও মারধর করেন বলে অভিযোগ।

সোমবার পঞ্চায়েত নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তাঁকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ওই দিন রায়গঞ্জের সুদর্শনপুরের বাসিন্দা রাজকুমার রায় প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে ইটাহারের সোনারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট করাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু, বুথের ভেতরে থাকাকালীন তাঁর কাছে বুথ ছেড়ে দেওয়ার জন্য ফোন আসতে থাকে, বুথ না ছাড়লে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও দমে যাননি ওই প্রিসাইডিং অফিসার যিনি পেশায় একজন শিক্ষক।

ঐদিন বিকেলে বুথ ছাড়ার পর থেকে তিনি নিঁখোজ হয়ে যান। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে। এর পর মঙ্গলবার রাতে রায়গঞ্জের সোনাডাঙিতে রেললাইনের ধার থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। গোটা ঘটনার সিবিআই তদন্ত, দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার এবং ভোটগণনার দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি জানিয়ে বুধবার সকাল থেকেই শহরের ঘড়িমোড়ে রাস্তা অবরোধ করেন কয়েকশো ভোটকর্মী।

রাজকুমারের পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে বুথ থেকে কেউ বা কারা অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে খুন করেছে। ইটাহারের বিডিও এবং থানার ওসি যে গোটা ঘটনা নিয়ে কোনও তৎপরতা দেখাননি, সেই অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।

করণদিঘির রহটপুর হাইস্কুলের শিক্ষক ছিলেন রাজকুমার। রবিবার রাতেই তিনি ভোটের কাজে ইটাহার গিয়েছিলেন। ভোটের দিন দুপুর পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ ছিল। দুপুর দুটোর পর থেকে আর কোনও যোগাযোগ না হওয়ায়, ওই দিন রাতে তাঁরা ইটাহারের বিডিও রাজু লামার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু বিডিও জানান, প্রিসাইডিং অফিসার রাত আটটা পর্যন্ত বুথে ছিলেন। যদিও পরে চাপের মুখে মঙ্গলবার দুপুরে বিডিও ইটাহার থানায় একটি নিঁখোজ ডায়েরি করেন।

এর পরেই মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ রাজকুমারের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারের পর পুলিশ প্রশাসনের একটা অংশ দাবি করেন, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। সেই দাবি মানতে নারাজ রাজকুমারের পরিবার। তাঁরা সিবিআই তদন্ত চেয়ে পুলিশের কাছে দাবি জানান। এর পরেই এ দিন সকাল থেকে কয়েকশো ভোটকর্মী ঘড়িমোড় অবরোধ করে নিজেদের দাবি জানাতে থাকেন।