রায়গঞ্জে রেললাইনের ধারে প্রিসাইডিং অফিসারের ক্ষতবিক্ষত দেহ মিললো

রায়গঞ্জে রেললাইনের ধারে প্রিসাইডিং অফিসারের ক্ষতবিক্ষত দেহ মিললো

রেললাইনের ধরে মিলল প্রিসাইডিং অফিসারের ক্ষতবিক্ষত দেহ। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে। কিন্তু কেন ওই প্রিসাইডিং অফিসারের এমন পরিনতি হলো?হুমকি উপেক্ষা করে নিজের কর্তব্যে অবিচল ছিলেন পঞ্চায়েতের ভোটের এই প্রিসাইডিং অফিসার। ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত বুথের বাইরে বেরোননি। তার ফল পেয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে রায়গঞ্জে রেললাইনের ধার থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতের পকেট থেকে পাওয়া গিয়েছে পরিচয়পত্র। ঘটনায় অপহরণ করে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে থানায়।

মৃতের নাম রাজকুমার রায়। বাড়ি উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের সুদর্শনপুরে। করণদিঘির রহতপুর হাই মাদ্রাসার ইংরেজির সহকারি শিক্ষক ছিলেন রাজকুমারবাবু। সরকারি কর্মচারী হওয়ার সুবাদে পঞ্চায়েত ভোটে ডিউটি পড়েছিল। ইটাহারের বানবোল প্রাথমিক স্কুলের বুথে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। অভিযোগ, সোমবার ভোটগ্রহণ চলাকালীন বারবার রাজকুমার রায়ের কাছে হুমকি ফোন আসছিল। ফোনে তাঁকে বুথের বাইরে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্ত, শত হুমকিতেও ওই সরকারি কর্মচারীকে কর্তব্য থেকে টলানো যায়নি। রাজকুমার রায় সাফ জানিয়ে দেন, ভোট চলাকালীন তাঁর পক্ষে বুথের বাইরে যাওয়া সম্ভব নয়। বুথ থেকে বেরোলে দেখা নেওয়ার পালটা হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ যখন ভোটের নথি ও ব্যালট জমা দিয়ে বুথ থেকে বেরোন রাজকুমারবাবু, তখন তাঁকে অপহরণ করে দুষ্কৃতীরা। এদিকে ভোটের ডিউটি সেরে স্বামী বাড়ি না ফেরায় প্রশাসনের দ্বারস্থ হন রাজকুমার রায়ের স্ত্রী অর্পিতা। তাঁর অভিযোগ, ভোটের পর রাজকুমার রায়কে যে অপহরণ করা হয়েছে, তা প্রথমে মানতে চাননি প্রশাসনের আধিকারিকরা। জানানো হয়, তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছেন। যদিও তা মানতে চাননি ওই প্রিসাইডিং অফিসারের স্ত্রী। শেষপর্যন্ত চাপে পড়ে রাজকুমার রায়ের নামে থানায় মিসিং ডায়েরি করেন ইটাহারের বিডিও রাজু লামা।