হুকিংয়ের জেরে রাজ্যে বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে ৬০%, চুরির ঘটনা দুই ২৪ পরগনাতে বেশি

হুকিংয়ের জেরে রাজ্যে বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে ৬০%, চুরির ঘটনা দুই ২৪ পরগনাতে বেশি

রাজ্যে হুকিং এর মাধ্যমে বিদ্যুত চুরির ফলে বিদ্যুত অপচয় হচ্ছে ৬০%। সমস্যা আর আছে। লো ভোল্টেজ। উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদের ভাবিয়া কাস্টমার কেয়ার কেন্দ্রে মোট গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৬৭ হাজার। সেই কেন্দ্রেই ২৮ কোটি টাকার বকেয়া বিল থাকায় অভিয়ানে নেমেছিল রাজ্য বিদ্যুৎ দফতর। কোনও কেন্দ্রে গ্রাহকদের থেকে প্রাপ্য টাকার ভিত্তিতে এটা একটা রেকর্ডও বটে। তবে অভিযোগ ছিল, বড় সংখ্যার মানুষ দিনেদুপুরে হুকিং করছেন। ফলে অন্যদের মধ্যেও টাকা না মেটানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে। সপ্তাহখানেক আগে বকেয়া আদায় ও হুকিং বন্ধের অভিযান চালিয়ে নিগৃহীত ও কার্যত মার খেতে হয়েছে বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদের। ভাঙচুর করা হয়েছে স্থানীয় কাস্টমার কেয়ার সেন্টারটিও।
হুকিংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে জনপ্রতিনিধিদের পাশে নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিষয়টির স্থায়ী নিষ্পত্তি করতে চাইছেন মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তবে কর্মী ও আধিকারিকদের একটি অংশ কড়া আইন প্রয়োগের কথা বলছেন। তবে শীর্ষ স্তরের বক্তব্য, অ্যাব কেবলিং চালু হলে হুকিংয়ের কোনও সমস্যা থাকবে না। সেই কারণে দ্রুত মাটির নিচে কেবল লাইন পাতার কাজ শুরু করেছে রাজ্য।
বিদ্যুৎ দপ্তর সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা এলাকায় রাজ্যে হুকিংয়ের কারণেই ৬০ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে। তথ্য পেয়ে এবার অবাক দপ্তরের আধিকারিকরা। হুকিংয়ের জেরে কোথায় কোথায় বিদ্যুতের অহেতুক অপচয় হচ্ছে, সে ব্যাপারে তালিকা তৈরি করেছে রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের তথ্যে স্পষ্ট, সব থেকে বেশি হুকিংয়ের পরিসংখ্যান রয়েছে দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বর্ধমান এবং নদিয়ার সীমানা এলাকায়। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমা এলাকায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। উত্তরবঙ্গে এবং মূলত পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুরে এটিসি ক্ষতির পরিমাণ খুব কম।