রানী রাসমণি রোডের সভা থেকে মমতাকে তীব্র আক্রমন মুকুলের, দিলেন অনেক তথ্যও

রানী রাসমণি রোডের সভা থেকে মমতাকে তীব্র আক্রমন মুকুলের, দিলেন অনেক তথ্যও

আজ রানি রাসমণি রোডে জমায়েত বিজেপির, যেটার মূল আকর্ষণ ছিলেন সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া মুকুল রায়। আজই প্রথম বার বিজেপির প্রকাশ্য সভামঞ্চে বক্তৃতা দিলেন মুকুল রায়। রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বেই ধর্মতলায় এই সমাবেশের ডাক দিয়েছিল বিজেপি। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে ছিলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়। অন্যতম প্রধান বক্তা ছিলেন মুকুল রায়।
এদিন বক্তৃতা করতে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ করেছেন মুকুল রায়। তিনি ছাড়াও অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন মুকুল। কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়, দিলীপ ঘোষও মমতা বন্দোপাধ্যায়কে আক্রমন করেছেন।
 এদিন ২ টো ২৫ মিনিট নাগাদ মুকুল রায় তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। ডেলোর বৈঠক প্রসঙ্গে কথা বলেন। বলেন, ' ডেলোর বৈঠকে আমি, কুণাল ঘোষ এবং রাঘবেন্দ্র সিংহ ছিলাম। কিন্তু পর্যটন নিয়ে আলোচনার পরে আমরা বেরিয়ে গিয়েছিলাম। ' ‘জাগো বাংলা’তৃণমূলের মুখপত্র বলেই সবাই জানেন কিন্তু মুকুল রায় এদিন বলেন এটি আসলে অভিষেকের মালিকাধীন একটা সংস্থা। তারপর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ডাক্তার নেই, এমনটাও অভিযোগ তাঁর। উল্লেখ্য, বিজেপি দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে যে ফাইল দেখিয়েছিলেন মুকুল রায়, ধর্মতলার মঞ্চ থেকে সেই ফাইল খুললেন মুকুল। বলেন, বিশ্ববাংলার যে লোগো ব্যবহার করছে রাজ্য সরকার, তা কোনও সরকারি লোগো নয়। বিশ্ববাংলার লোগো আসলে অভিষেকের মালিকাধীন সংস্থা, দাবি মুকুলের। তাঁর কথায়, তৃণমূলে কোনও গণতন্ত্র নেই।
এদিন মমতা বন্দোপাধ্যায়কে হুঁশিয়ারির সুরে মুকুল বলেন, আপনার যদি সরকার চালানোর অধিকার থাকে, আমারও সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। তাঁর মত, পাল্টে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরেই আসে ডেঙ্গির প্রসঙ্গ। ডেঙ্গিতে মানুষ মারা যাচ্ছেন। আর মুখ্যমন্ত্রী উৎসব, নাচা-গানা করে বেড়াচ্ছেন। পুলিশ দিয়ে বিরোধীদের দমন করা হচ্ছে বাংলায়। এমনটা আগে কখনও হয়নি বলে মত তাঁর। 
এদিন বক্তব্য রাখেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মুলুত তাঁর নেতৃত্বেই আজকের সভা। দিলীপ ঘোষ এদিন বলেন, আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচন আমাদের পরীক্ষা। পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের পরিবর্তন শুরু হবে পঞ্চায়েত থেকেই। এত দিন আমরা খালি হাতে ভদ্রলোকের মতো নির্বাচন করতে যেতাম। এ বার আর তা হবে না। যে ঠাকুর যে ফুলে তুষ্ট, তাঁর জন্য সেই ফুলই নিয়ে যাবেন। বিজেপি কর্মীদের নির্দেশ দিলেন দিলীপ ঘোষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ মিডিয়ার সামনে আসেন না। মাঝে-মধ্যে নবান্নে বসে বাণী দেন। উল্টো-পাল্টা, মিথ্যা তথ্য দেন। দাবি দিলীপের। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বাঘিনী, আজ বিড়ালে পরিণত হয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের। মণিপুর, ত্রিপুরা-সহ বিভিন্ন রাজ্যে তৃণমূলের বিধায়করা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন, বললেন দিলীপ ঘোষ।
মণিপুর, ত্রিপুরার প্রসঙ্গ টেনে দিলিপের আরও মন্তব্য— সব খুচরো দোকান একে একে বন্ধ করে দিয়েছি। ২০২১-এ পাইকারি দোকানটাও বন্ধ করে দেব। কালীঘাটের পাইকারি দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেব। বিজেপিকে যে ভাঙতে আসবে, বিজেপি তাকে গুঁড়ো করে দেবে, হুঁশিয়ারি দিলীপ ঘোষের। গোটা রাজ্যে বিরোধী দল ভাঙিয়ে একের পর এক পুরসভা, পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদ দখল করেছে তৃণমূল, বললেন দিলীপ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, বিজেপি দল ভাঙাচ্ছে। দল ভাঙানোর রানি মমতা। তিনিই আমাদের বিরুদ্ধে দল ভাঙানোর অভিযোগ তুলছেন? বিস্ময় প্রকাশ করলেন দিলীপ। গোটা রাজ্যে বিজেপি কর্মীদের উপর আক্রমণ হচ্ছে। পুলিশ এবং গুণ্ডা লাগিয়ে আক্রমণ করছে তৃণমূল, অভিযোগ দিলীপের। তাঁর কথায়, ' এ কী ধরণের তোষণ! ' দুর্গাপুজোর বিসর্জনের জন্য আজ আদালত থেকে অনুমতি নিতে হচ্ছে। সরস্বতী পুজো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। মন্তব্য দিলীপ ঘোষের। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প স্বচ্ছ ভারত অভিযান। টাকা দিচ্ছে কেন্দ্র। সেই প্রকল্পের নাম বদলে করে দিয়েছেন, ‘মিশন নির্মল বাংলা’।
 কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয় এদিন বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা। ৫০০০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা রাজ্যের। সেই প্রকল্পের নাম বদলে করে দিয়েছে ' বাংলা গ্রাম সড়ক যোজনা ', বললেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়। নির্লজ্জতারও একটা শেষ থাকে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বললেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়।
তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ রাহুল সিংহের। বাংলায় তীব্র সাম্প্রদায়িক তোষণ শুরু করেছে তৃণমূল, অভিযোগ রাহুলের।
' ১০০টা মমতা এলেও পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ বানাতে পারবেন না। ' মন্তব্য রাহুল সিংহের। আজকের এই মঞ্চ ময়দান থেকে তৃণমূলের বিসর্জনের বাজনা বাজতে শুরু করেছে, বলেন রাহুল সিংহের। তৃণমূল সৃষ্টি করেছিলেন যিনি, সেই মুকুল রায় আজ এখানে তৃণমূলের ধ্বংসের বীজ বপন করবেন, বলেন রাহুল। তৃণমূলের বিরুদ্ধে মিথ্যে রটানোর অভিযোগ তুলেছেন রাহুল সিংহ। তাঁর অভিযোগ, কুৎসার রাজনীতি করছে তৃণমূল। আমাকে আর মুকুলকে নিয়ে কুৎসা ছড়াচ্ছে, বললেন রাহুল সিনহা।