শৌচাগার নিয়ে প্রতিবাদ এ বার মেদিনীপুরে

শৌচাগার নিয়ে প্রতিবাদ এ বার মেদিনীপুরে

শৌচালয় নিয়ে সরব এবার মেদিনীপুর। জনপ্রিত হিন্দি সিনেমা ' টয়লেট: এক প্রেম কথা ' তে আমরা দেখেছি একটি মেয়ের শৌচালয়ের দাবি নিয়ে লড়াই। এবার তেমনটাই ঘটল মেদিনীপুরে। মঙ্গলবার দুপুরে স্কুলের পোশাকেই ২৫ কিলোমিটার উজিয়ে জেলাশাসকের ঘরে এসে জনা পনেরো কিশোরী দাবি জানাল— ' স্কুলে টয়লেট চাই। ঝোপেঝাড়ে আর যাব না। ' যা শুনে প্রশাসনের কর্তারা হতভম্ব। এমন ভাবে এই দাবি তো আগে কখনও কেউ তোলেনি!
পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর রাজনীতির অনুষঙ্গে চেনা নাম। সেখানেই রয়েছে ঝলকা গোটগেড়্যা শিবশক্তি হাইস্কুল। নির্মল বাংলা নিয়ে যেখানে হাজারও প্রচার, জেলার বহু স্কুলে যেখানে ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন বসছে, সেখানে কেশপুরের এই স্কুলে এতদিনেও মেয়েদের শৌচাগারই তৈরি হয়নি। শৌচাগারের দাবিতেই মঙ্গলবার দুপুরে জনা পনেরো ছাত্রী মেদিনীপুরে এসেছিল। জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা হয়নি। তবে শৌচাগার তৈরির আবেদন তারা জমা দিয়েছে। একাদশ শ্রেণির অসীমা দোলুই, রূপালি দোলুইরা বলছিল, ' ঝোপঝাড়ে যেতে লজ্জা লাগে। মেয়েদের শৌচাগার তৈরি কি এতটাই কঠিন! ' 
১৯৬৭ সালের এই স্কুলে গোড়া থেকেই ছেলে-মেয়েরা একসঙ্গে পড়ে। আর এখন সাড়ে এগারোশো পড়ুয়ার মধ্যে সাড়ে ছ'শো জনই ছাত্রী। অথচ গোটা স্কুলে যে একটি মাত্র শৌচাগার রয়েছে, সেটি ছাত্ররা ব্যবহার করে। চার জন শিক্ষিকার জন্যও শৌচাগার রয়েছে। কিন্তু ছাত্রীদের যেতে হয় ঝোপঝাড়ে।
ছাত্রীদের অভিযোগ, মেয়েদের তিনটি শৌচাগারের অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু সে টাকা নয়ছয়ে প্রধান শিক্ষক জড়িত। জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনা বলেন, বিষয়টি মহকুমাশাসককে দেখতে বলেছি।