বিবাহিত জীবন জোড়া লাগার কোনো সম্ভাবনা নেই, জানালেন মেয়র

বিবাহিত জীবন জোড়া লাগার কোনো সম্ভাবনা নেই, জানালেন মেয়র

কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন এখন চর্চার বিষয়। ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও তার পরিপ্রেক্ষিতে বাড়ি ছেড়ে ফ্ল্যাটে থাকা ও তারপর একের পর এক নানান কারণে মেয়রের ব্যক্তিগত জীবন এখন চর্চার বিষয়। অন্যদিকে দলের থেকে দূরত্ব বাড়ার জল্পনাও রয়েছে। তবে এবিষয়ে মেয়র বলছেন, সেরকম কোনও সম্ভাবনা নেই। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনেই তিনি তাঁর উপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালন করে চলবেন। সেইসঙ্গে বৈশাখি বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকার কথাও অকপটে জানিয়ে দিলেন তিনি।

দলের কোর কমিটির বৈঠকে অনুপস্থিটি ঘিরে তৈরী হয়েছিল জল্পনা, দলের সাথে কি তাঁর দুরত্ব বাড়ছে?। কিন্তু মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, সোমবারও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁর। কোনওরকম গুজবে কান না দিয়ে, তাঁকে কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মেয়র জানিয়ে দিলেন, পদত্যাগ থেকে দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ানোর অনেক গল্প ছড়ানো হয়েছে। কিন্তু সে সবের কোনও সারবত্তা নেই।

ব্যক্তিগত জীবনের জটিলতা নিয়েও এদিন মুখ খোলেন মেয়র। জানান, ১৯৯৫ সালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর প্রশ্ন, কেউ কি শখ করে বিবাবিচ্ছেদের মামলা করে? তিনি যখন নিজে থেকে তা করেছেন, তখন বোঝাই যাচ্ছে, পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়েছিল যেখান থেকে আর সম্পর্ক রাখা সম্ভব নয়। তাঁর সঙ্গে সম্পর্কের জেরেই বৈশাখি বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি সংগঠনের শীর্ষপদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জল্পনা ছড়ায়। এদিন মেয়র খুব খোলাখুলি জানিয়ে দেন, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের বিপর্যয়ের সময় পাশে থেকেছেন বৈশাখি। তিনি বলেন, আমি কী সমস্যায় ছিলাম সে তো শুধুই আমি জানি। অন্য অনেকেই বুঝতে পারবেন না, কারণ এটা উপলব্ধির বিষয়। এই পরিস্থিতিতে বৈশাখি তাঁর পাশে ছিলেন। এজন্য তিনি কৃতজ্ঞ। এবং যিনি বিপর্যয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁর পাশেও দাঁড়াতে চান মেয়র। জানান, “বৈশাখি পারিবারিক বন্ধু। তাঁর পাশেই থাকব। আর আমার জন্য বৈশাখির উপর কোনও আঘাত নেমে আসুক তা আমি চাই না।” সংগঠন থাকবে কি থাকবে না তা দলীয় সিদ্ধান্ত। কিন্তু মেয়রের সঙ্গে সম্পর্কের জন্য বৈশাখীকে যদি কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় তবে তিনি মর্মাহত হন বলেই জানান মেয়র।

সেই সঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বিবাহিত জীবন আর জোড়া লাগার কোনও সম্ভাবনা নেই।