গুগল ডুডলে আজ শ্রদ্ধা সার্থক অগ্নিকন্যা মহাশ্বেতা দেবীকে

গুগল ডুডলে আজ শ্রদ্ধা সার্থক অগ্নিকন্যা মহাশ্বেতা দেবীকে

আজ গুগল ডুডলে শ্রদ্ধা জানানো হলো মহাশ্বেতা দেবীকে৷ একজন সার্থক অগ্নিকন্যা নামেই বাংলা চেনে তাঁকে৷ তাঁর কথায়, সোভিয়েতের পতনেই যেমন মার্ক্সসিজম মিথ্যা হয়ে যায় না, তেমনই শ্রেণি অস্বীকার করলেই ইতিহাস থেকে শ্রেণি মুছে যেতে পারে না৷ সাহিত্যিক হিসেবে সামাজিক দায়িত্ব অস্বীকারের অপরাধ ক্ষমাহীন-এই ছিল তাঁর সাহিত্যকর্মের ভিত্তিভূমি৷ তাই তাঁর লেখনী বারবার আমাদেরকে মনে করিয়ে দিয়েছে সমাজের প্রতি আমাদের কর্তব্য অস্বীকার করার নয়৷ আজ জন্মদিনে ডুডলে তাঁকেই শ্রদ্ধা জানাল গুগল৷
সমাজের বহতা তথাকথিত মূলস্রোতের সংজ্ঞাটিকেই বদলে দিতে পেরেছিলেন তিনি৷ তাঁর সাহিত্য মানুষের হাত ধরে মানুষকেই নিয়ে যেতে পেরেছিল এমন এক বৃহত্তর ভূমিতে, যেখানে বিভাজনের প্রাচীন রাজনীতি লজ্জা দিয়েছে সভ্যতাকেই৷ আর তিনি যতখানি হয়ে উঠেছেন এ শহরের মহাশ্বেতা দেবী, ততখানিই হয়ে উঠতে পেরেছিলেন দলিত-শবরের মা৷ 
তাঁর কাকা ঋত্বিক যেমন বিশ্বাস করতেন, সিনেমা ভাল খারাপ হয় নয়, তা আসলে হয় কমিটেড, নতুবা কমিটেড নয়৷ সেই কমিটমেন্ট মানুষের প্রতি, সভ্যতা, সমাজ ও সময়ের প্রতি৷ এ তো আসলে সামগ্রিক শিল্পের প্রতিই এক সমাজসচেতন শিল্পীর দৃষ্টিভঙ্গী৷ শিল্পের এই দায়বদ্ধতাই দেখা গিয়েছিল মহাশ্বেতা দেবীর সাহিত্য জীবনে৷ তিনি নিজেই স্বীকার করতেন মহাশ্বেতা দেবী হয়ে ওঠার পথে তাঁকে গড়ে তোলার কারিগর ছিলেন বিজন ভট্টাচার্যই৷ বাংলা সংস্কৃতিকে যিনি দিয়েছিলেন নবান্নের ঘ্রাণ, তাঁর হাতেগড়া মহাশ্বেতা যে সামাজিক দায়বদ্ধতার অঙ্গীকারকেই তাঁর জীবনের অলংকার করে তুলবেন তা বলাই বাহুল্য৷ 
আর তাই তিনি নিজেও বলেন, ' দায়িত্ব অস্বীকারের অপরাধ সমাজ কখনওই ক্ষমা করে না '৷ এ দায়িত্ব মানুষের সভ্যতার ইতিহাসের প্রতি৷ সে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে, কখনও ব্যক্তিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে কিছু কিছু দায়িত্বপালনে খামতি থেকে গিয়েছে৷ ২০১৬-য় ফুরিয়েছে তাঁর পার্থিব জীবন৷ কিন্তু সাহিত্যের উত্তরণে আজও তিনি ভাস্বর৷ সেই মহিয়সীকেই আজ শ্রদ্ধা গুগলের৷