তারাপীঠে এবার থেকে ভক্তদের জন্য নিষিদ্ধ হচ্ছে তারা মায়ের স্নান দর্শন

তারাপীঠে এবার থেকে ভক্তদের জন্য নিষিদ্ধ হচ্ছে তারা মায়ের স্নান দর্শন

এবার এক পুরনো এক নিয়ম বদলাতে চলেছে তারাপীঠ মন্দিরে। এবার থেকে আর তন্ত্রপীঠে এসে আর মা তারার স্নান দর্শন করতে পাবেন না পুণ্যার্থীরা। এই প্রথা দেড় হাজার বছরের পুরনো। আগামী সোমবার থেকে এই নিয়ম চালু করা হবে বলে শুক্রবার জানিয়ে দিলেন তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় ও সম্পাদক ধ্রুব চট্টোপাধ্যায়।
তারাপীঠের ইতিহাস বলছে, এখন থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে বণিক জয় দত্ত সওদাগর তারাপীঠ মহাশশ্মানের শ্বেতশিমূল গাছের নিচ থেকে মা তারার শীলামূর্তি উদ্ধার করে সেখানেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরে রানি ভবানী মা বর্তমান মন্দির প্রতিষ্ঠা করে মা তারাকে শ্মশান থেকে সেই মন্দিরে নিয়ে অধিষ্ঠান করান। সেখানেই মায়ের ভোগ ঘর তৈরি করে নিত্য ভোগের ব্যবস্থা করেন। কালের পরিবর্তনের সঙ্গে আজ তারাপীঠের অনেক স্মৃতি হারিয়ে গিয়েছে। মন্দির এলাকা সংস্কারের নামে মায়ের সেই প্রাচীন ভোগ ঘর ভেঙে ফেলে আধুনিকীকরণের ছোঁয়া দিয়েছে তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ। এবার বন্ধ করা হল মায়ের স্নান দর্শন।
শুক্রবার তারাপীঠে সাংবাদিক সম্মেলন করে মন্দির কমিটি। সেখানেই কমিটির এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়।  কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত? মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন,  “প্রথমত পর্যটকদের চাপ। সঙ্গে মায়ের কাছে নানা আবদার। ফলে সে সময় পুজো দিতে আসা পর্যটকদের লম্বা লাইন পড়ে যেত। যা মাঝে মধ্যেই মন্দির চত্বর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসত। বহু পূণ্যার্থী সেই লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়তেন। তাই এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে মন্দির কমিটি। ' উল্লেখ্য, চিরাচরিত প্রথা মেনে দৈনিক ভোরে মা তারাকে স্নান করিয়ে রাজবেশ পড়িয়ে মন্দিরের দরজা পুণ্যার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হত।