বহুতলে আগুন নেভানো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কপ্টার কেনার পরিকল্পনা দমকলের

বহুতলে আগুন নেভানো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কপ্টার কেনার পরিকল্পনা দমকলের

বহুতলগুলিতে অগ্নিকান্ড ঘটলে তা একপ্রকার চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় দমকল কর্তৃপক্ষের কাছে। কারণ, সেখানে ঠিক সময়ে পৌছনো বা দমকলের গাড়ি পৌছানো কঠিন হয়ে পড়ে। একে তো শহরে হুড়মুড়িয়ে মাথা তুলছে বহুতল, তার ওপর জায়গা কমছে শহরে। যাতে করে দমকলের গাড়ি ঠিক সময়ে ঘটনাস্থলে পৌছনো কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রুত বদলে যাওয়া শহরে নাগরিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাও এখন ‘‌চ্যালেঞ্জ’‌ প্রশাসনের কাছে। তাই এবিষয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে দমকল। 
একদিকে যেমন পরিকাঠামোর ওপর জোর দেওয়া হবে, অন্যদিকে নতুন কিছু বিধিনিষেধও জারি করার পরিকল্পনা রয়েছে। নিয়ম না মানলে জরিমানা তো হবেই, প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। প্রথমেই নজর দেওয়া হচ্ছে বহুতলগুলিতে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে যাতে আবাসিকরা সুরক্ষিত থাকেন, তার জন্য এবার বহুতল লাগোয়া একটি ‘‌ফায়ার রেজিস্ট্যান্স টাওয়ার’ গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি ফ্লোরের সঙ্গে ওই টাওয়ারের সংযোগ থাকবে। কোনও সময় ওই বহুতলে আগুন লাগলে বাসিন্দারা টাওয়ারের মধ্যে আশ্রয় নিতে পারবেন। ৪ ঘণ্টা ধরে সেখানে থাকলেও, আগুনে কিছু ক্ষতি হবে না। অভিজ্ঞ দমকল কর্মীদের বক্তব্য, ৪ ঘণ্টা অনেক সময়। তিন থেকে ৪ মিনিটের মধ্যে আগুনের উৎসস্থলে পৌঁছোতে পারলেই দ্রুত মোকাবিলা সম্ভব‌।
ওই টাওয়ার নির্মাণে বিশেষ ইট এবং কেমিক্যাল ‌ব্যবহার করা হয়। ফলে সেখানে বাসিন্দারা আশ্রয় নিলে তাঁদের কোনও রকমের ক্ষতি হবে না। গগনচুম্বী বহুতলের ক্ষেত্রে এর বিকল্প হয় না। বিদেশে বহুতলগুলি লাগোয়া এই ধরনের টাওয়ার দেখা যায়। পূর্ব ভারতের মেট্রো শহর কলকাতাই বা কেন পিছিয়ে থাকবে?‌‌ ভারতে এই প্রথম কোনও শহরে ‘‌ফায়ার রেজিস্ট্যান্স টাওয়ার’ করা বাধ্যতামূলক করতে চাইছে দমকল। 
শুধু টাওয়ারই নয়, এর সঙ্গে হেলিকপ্টারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন দমকলের ডিজি জগমোহন। তিনি বলেন, ' ‌৩৫ তলায় আগুন লাগলে তার মোকাবিলা করতে গেলে হেলিকপ্টারের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে রাজারহাট এবং নিউ টাউনের ক্ষেত্রে তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠতে পারে। বহুতলগুলিতে হেলিপ্যাডেরও ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে, যে কোনও পরিস্থিতিতে আমরা লড়াই চালিয়ে যেতে পারি। '