পাটুলিতে ভাসমান বাজার!

পাটুলিতে ভাসমান বাজার!

ভাসমান বাজার তৈরি হচ্ছে বাইপাস লাগোয়া পাটুলিতে। আর পাঁচটা বাজারের মতো এটি নয়। নৌকোয় থাকবেন দোকানীরা। আপনাকে জলের উপর উঠতে হবে। দরদামে পছন্দ না হলে আর এক নৌকায় যেতে পারেন। 
প্রায় ৩০০ মিটার জলাশয় জুড়ে চলছে এই বাজার তৈরির প্রক্রিয়া।
 বাইপাস চার লেন করার সময় রাস্তার দু’ধারে থাকা অস্থায়ী পাটুলি বাজার কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই অংশের পাশেই তৈরি হয়েছে ভাসমান বাজার। রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য ২২৮টি দোকান অন্তরায় ছিল। সেই ২২৮ জন ব্যবসায়ীকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে এই ভাসমান বাজারে। যার দীর্ঘ ৩০০ মিটার, চওড়ায় ৩৫ মিটার। 
স্থানীয় কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী বলছেন, কাজ প্রায় শেষের দিকে। দুই ঝিলের মাঝের বাঁধ সরিয়ে দিয়ে চারপাশে কংক্রিটের আস্তরণে মুড়ে দেওয়া হয়েছে৷ বাজারে ঢোকার জন্য মাছরাঙা রেস্টুরেন্টের পাশের গেট দিয়ে আসতে হবে। তবে অন্যান্য দিক দিয়েও এই ভাসমান বাজারে ঢোকা যাবে৷ ডোবার পূব দিকে রয়েছে ই এম বাইপাস। উত্তর পশ্চিম দিকে পাটুলি থানা। কাজ দ্রুত গতিতে চলছিল। তবে বর্ষা শেষ হওয়ার পর দফায় দফায় বর্ষণে কাজে বেশ খানিকটা ব্যাঘাত ঘটে। না হলে নভেম্বরেই কাজ গুটিয়ে ফেলা যেত। ভাসমান বাজারে বিদ্যুতায়নের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। নৌকা এবং রাস্তাতেও আলো বসানোর কাজ চলছে জোর কদমে।
পাটুলির এই বাজার হুগলির বলাগড়ের নৌকাশিল্পের ছোঁয়া পাচ্ছে। বাজারে ৭০টি সরু রঙিন নৌকা তৈরি হয়েছে। কাজ করছেন বলাগড়ের শিল্পীরা। নৌকাগুলির বৈশিষ্ট্য প্রতিটি আলাদা রঙের৷ এর মধ্যে ৪০টি বড় নৌকা এবং ৩০টি ছোট৷ বিশালাকার ঝিলের জল নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে যন্ত্রও এসে গিয়েছে৷ একেক এক নৌকায় এক এক রকম জিনিস মিলবে। কোন নৌকায় কী কী সামগ্রী বিক্রি হবে তার তালিকাও সেরে ফেলা হয়েছে। নতুন বছরের শুরুতেই দেশের প্রথম ভাসমান বাজারের সূচনা হতে চলেছে। কেনাকেটার পাশাপাশি ক্রেতাদের মনোরঞ্জনের জন্য রয়েছে হরেক ব্যবস্থা। বাজারেই থাকবে ক্যাফেটেরিয়া, ঝরনা এবং বসার সুদৃশ্য চেয়ার।