মুড়িগঙ্গায় আটকে গেল সাগরমুখী যাত্রীবাহী দুটি ভেসেল

মুড়িগঙ্গায় আটকে গেল সাগরমুখী যাত্রীবাহী দুটি ভেসেল

জলের গভীরতা কম হওয়ার কারণে মুড়িগঙ্গার মাঝখানে গিয়ে আটকে গেল দুটি যাত্রীবাহী ভেসেল। মকরসংক্রান্তির স্নান রবিবার। তার আগেই এই ঘটনা প্রশ্নের মুখে ফেলেছে প্রশাসনকে। 
জলযানের জন্য নদীজলের ন্যূনতম গভীরতা দু’মিটার হওয়া দরকার। অথচ সেটা মাত্র দেড় মিটার হওয়ার পরেই আট নম্বর লট থেকে ছেড়ে দিয়েছিল ভেসেল। আর তাতেই বিপত্তি। মুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে আটকে গেল যাত্রী-ভর্তি ভেসেল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার আট নম্বর লট থেকেই ছেড়েছিল ওই দুই জলযান। বেলা ৩টে থেকে বিকেল পৌনে ৪টে পর্যন্ত নদীর মধ্যে ঠায় আটকে ছিল দু’টি ভেসেল। কয়েক জন কর্মী তখন নদীজলের গভীরতা মাপতে ব্যস্ত।
জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও এ দিন জানান, পলি পড়ে নাব্যতা কমে যাওয়ার ফলেই এই সমস্যা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, প্রায় প্রতিদিনই পলি তোলা হলেও ফের পলি পড়ছে। সেই জন্য এডিসিপি নামে একটি যন্ত্র দিয়ে প্রতিনিয়ত জল মাপার কাজ চলছে। জলের গভীরতা অন্তত দু’মিটার হচ্ছে কি না, সেটা দেখেই ভেসেল চালানো হচ্ছে। ওই যন্ত্র জানিয়ে দেয়, কোথায় জলের গভীরতা কত। সেই অনুসারে রুট দিয়ে ভেসেল চালানো হয়। 
এক কর্মীর অভিযোগ, সবুজ সঙ্কেত না-দেওয়া সত্ত্বেও ভেসেল চলে আসায় বিপত্তি ঘটেছে। গভীরতা মাপার যন্ত্র এডিসিপি থাকতেও কেন এমন হল, খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। 
জেলাশাসকের দাবি, সাগরে এ বছর কয়েক গুণ নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বাবুঘাট, পৈলান, লট-৮, কচুবেড়িয়া-সহ বিভিন্ন জায়গায় মোট ৬০টি স্ক্রিনে নজর রাখছেন কর্মীরা। গঙ্গাসাগর মেলার কাছে জেলাশাসকের মেলা অফিসের পাশে কন্ট্রোল রুম চালু হয়েছে। ৫০০টি সিসি ক্যামেরা এবং সাতটি ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি চলছে। পুলিশ আছে তিন হাজারেরও বেশি। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গঙ্গাসাগরে প্রায় তিন লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।