জলপাইগুড়িতে জ্বালিয়ে দেওয়া হল ব্যালট, রাজারহাটে জল ঢেলে ভেজানো হলো

জলপাইগুড়িতে জ্বালিয়ে দেওয়া হল ব্যালট, রাজারহাটে জল ঢেলে ভেজানো হলো

গণতন্ত্রের উৎসব হলো নির্বাচন। কিন্তু এযেন উৎসব নয়, সন্ত্রাস। আজ পঞ্চায়েত নির্বাচনের এক দফা নির্বাচনে সন্ত্রাসের বাতাবরণ রাজ্যজুড়ে। আগুন ও জল বিপরীতধর্মী। কিন্তু আজ ভোটের দিন এই দুটি জিনিস একটিই বিষয়কে ইঙ্গিত করছে, তা হলো সন্ত্রাস। একদিকে জল ঢেলে দেওয়া হলো ব্যালট বাক্সে। অন্যদিকে অন্য একটি বুথে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলো ব্যালট বাক্সে। ব্যাহত ভোটপ্রক্রিয়া।

জলপাইগুড়ির শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্যালটে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল। অভিযোগ ভোটপ্রক্রিয়া বানচাল করতেই ব্যালট বাক্স লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। যে ছবি উঠে আসছে তাতে দেখা যাচ্ছে, দাউদাউ করে জ্বলছে ব্যালট। ওই কেন্দ্রে আপাতত আর ভোট করা যাচ্ছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া বন্ধেরই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

এদিকে জলপাইগুড়িতে যখন আগুন তখন শান্তচিত্তে ব্যালট ভিজিয়ে দেওয়া হল রাজারহাটে। সেখানেও সকাল থেকে বুথ দখলের অভিযোগ ওঠে। জানা যাচ্ছে, পাথরঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের কাশীনাথপুরে ১৯২ নম্বর বুথে সকাল থেকেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। তার জেরে ভোট প্রদান প্রায় বন্ধ ছিল। ভোট দেওয়া যাচ্ছিল না। দু’পক্ষের মধ্যে মারামারির জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা।

অন্যদিকে, উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বিরুদ্ধে এক বিজেপি এজেন্টকে চড় মারা অভিযোগ ওঠে। যদিও মন্ত্রী তা অস্বীকার করেছেন। তাঁর পালটা অভিযোগ, ওই কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স লুট করে মাটিতে আছাড় মেরে ভেঙে ফেলা হচ্ছিল। মহম্মদবাজার কুলিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮ নম্বর বুথ লুট করারও অভিযোগ উঠেছে। ৭১৮ জন ভোটারের মধ্যে ২০০ ভোট পড়েছিল। বেলা ১০ টা নাগাদ ১০ /১২ জনের একটি মহিলা দল ঢুকে ব্যালট বাক্স লুট করে বলে অভিযোগ। মহিলা পুলিশ না থাকায় কেউ বাধা দিতে পারেনি। তৃণমূলের অভিযোগ বিজেপির মহিলারা এই লুট করেছে। এই ঘটনায় আটক হয়েছেন দুই মহিলাকে।